বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ম্যাচের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো। তাঁর অভিযোগ, গোলের পর উদযাপন করতে গিয়ে সময় নষ্ট করেছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের আক্রমণের সামনে যেন চীনের প্রাচীর তুলেছিল প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলেরা বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে আটকে গেছেন। ৬৯ মিনিট পর্যন্ত গোলহীন থাকা ফরাসিরা জয়সূচক গোলটা পায় এমবাপ্পের স্পট কিক থেকে। এরপর তাদের উদযাপনেও ছিল বাধভাঙা উল্লাস।
ফ্রান্সের খেলার ধরন ও ম্যাচের গতি নিয়ে আলফারো বলেন, ‘ফ্রান্সের জন্য ম্যাচ সাধারণত ৬০ মিনিট পর্যন্তই চলত। ওই সময়ের মধ্যেই তারা পার্থক্য গড়ে দিত। আজ যদি ওই পেনাল্টিটি না হতো, তারা পার্থক্য গড়তে পারত না। তাই তারা যেভাবে উদযাপন করেছে এবং সময় নষ্ট করেছে, সেটাই দেখায় বিষয়টা কত কঠিন ছিল। তারা জানে, এটা তাদের জন্য কতটা কষ্টসাধ্য ছিল।’
নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্যারাগুয়ের দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফেরা নিয়েও কথা বলেন আলফারো। তিনি বলেন, ‘এই দলটি (ফ্রান্স) ২০১৮ সালে রাশিয়ায় বিশ্বকাপ জিতেছে এবং ২০২২ সালে কাতারের ফাইনালে হেরেছে। আমরা ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপে ফিরেছি। আমরা যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি, তাতে আমি গর্বিত—সব অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও।’
দলের কিছু খেলোয়াড়ের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে আলফারো বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, যেসব ছেলেদের নিয়ে কেউ কেউ সন্দেহ করেছিল, যেমন (অরল্যান্ডো) গিল বা (মাতিয়াস) গালারজা, তারা নিজেদের জায়গা অর্জন করেছে।’
ফ্রান্সের মতো দলের বিপক্ষে লড়াকু ফুটবল খেলায় খেলোয়াড়দের মানসিকতার প্রশংসা করেছেন আলফারো, ‘আমি ছেলেদের বলেছিলাম, আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবিকার জন্য লড়াই করি। এই ছেলেদের জীবন অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। আমাদের অবস্থান হলো মাঠে আমরা সিংহের মতো লড়ব। আমাদের লড়াই বিনয় ও সরলতার।’
সবশেষে নিজের ভবিষ্যৎ ও দায়িত্বকাল নিয়ে আলফারো বলেন, ‘এই দুই বছরে আমি সন্তুষ্ট। শুধু আলোচনায় বসা নয়, আমাদের ঠিক করতে হবে প্যারাগুয়ে কী ধরনের ফুটবল চায়। আমি ভালোভাবেই জানি সেটা কী হওয়া উচিত।’








