আসন সংকট, গরম ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় ভুগছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জব কর্নার। জায়গার অভাবে গাদাগাদি করে পড়াশোনা করতে হচ্ছে চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের। এ অবস্থায় দ্রুত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশেই নতুন জব কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের নিচতলায় ‘জব কর্নার’ চালু করে প্রশাসন। চালুর পর থেকেই এটি চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের অন্যতম ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি সুযোগ-সুবিধা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জব কর্নারে আসনের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। ফলে গাদাগাদি করে বসে পড়াশোনা করতে হচ্ছে তাদের। অনেককে আবার আসনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
শুধু আসনসংকটই নয়, সেখানে নেই শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা। প্রয়োজনের তুলনায় সিলিং ফ্যানও অপ্রতুল। আলো-বাতাসের স্বল্পতায় ভ্যাপসা গরমে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যেখানে একটি আসনের জন্য হাহাকার, ঠিক তার বিপরীত পাশে থাকা ‘ডিজিটাল সেন্টার’ কক্ষটি বেশির ভাগ সময়ই অব্যবহৃত থাকে। মাঝে মধ্যে দু-একটি সভা ছাড়া কক্ষটি সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। সেটি ব্যবহার করা গেলে আসনসংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে তাদের দাবি।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি বলেন, “আমরা যারা চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছি, জব কর্নারটি আমাদের জন্য আশীর্বাদের মতো। কিন্তু ইদানীং শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এত বেড়েছে যে বসার জায়গা পাওয়াই কঠিন। তার ওপর এই তীব্র গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এক প্রকার যুদ্ধ। দ্রুত এই কর্নারের পরিসর বৃদ্ধি, ডিজিটাল তথ্যসেবা চালু এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামো নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
আরেক শিক্ষার্থী বেবী খাতুন বলেন, “সিটের আশায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও অনেক সময় জায়গা পাই না। পড়তে পড়তে একটু খাওয়ার জন্য বাইরে গেলে, এসে দেখি সিট হাতছাড়া হয়ে গেছে। এই তীব্র গরমে লাইব্রেরির ভেতরে টেকা দায়। প্রশাসন যদি একটু সদয় হয়ে আমাদের কষ্টের কথা ভাবত, তবে আমাদের অনেক উপকার হতো।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক খন্দকার আব্দুল মজিদ বলেন, “পাঁচ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পরে জব কর্নার চালু করা হয়েছে। জায়গা-সংকটের কারণে জব কর্নারে সিট বৃদ্ধি করাও সম্ভব না। আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশেই নতুন জব কর্নার স্থাপন হতে পারে।”








