- গুনতে হয় ক্যাম্পাসের সব ল্যাম্পপোস্ট
- পাঁচতলায় উঠে ঝুঁকিপূর্ণ সেলফির নির্দেশ
- কখনো কখনো হলে আটকে রেখে নির্যাতন
ল্যাম্পপোস্ট গণনা, লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে বা ভবন থেকে লাফানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ সেলফি তোলা কিংবা গভীর রাতে মেসের ছাদে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধূমপান করানো—ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘ম্যানার শেখানো’র নামে এভাবেই চলছে নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। জাগো নিউজের অনুসন্ধানে র্যাগিংয়ের এমন চিত্র উঠে এসেছে। তবে এসব নির্যাতনের ঘটনা খুব কমই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে আসছে। ফলে পার পেয়ে যাচ্ছেন জড়িতরা।
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইন, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স এবং ফার্মেসি ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে র্যাগিং নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের তিন থেকে চার দফায় ‘ম্যানার শেখানো’র নামে একত্রিত করা হয়। এসব আয়োজন কখনো ক্লাসরুমে, কখনো আবাসিক হলের বাইরে, আবার কখনো গভীর রাতেও অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন‘র্যাগিংয়ের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। কেউ ফৌজদারি অপরাধ করলে তার ছাত্রত্বও চলে যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। কিছু বিষয় কানে এসেছে। আমরা বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বসেছি। তাদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে’
র্যাগিং দণ্ডনীয় অপরাধ, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: জবি প্রক্টর
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা নবীনদের বারবার ‘ফরমাল পরিচয়’ দিতে বলেন। পরিচয়ে ভুল হলে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, অপমান, বিদ্রুপ ও হাস্যরসের পাত্রে পরিণত করা হয়। এসময় উপস্থিত নবীনদের মোবাইলফোনও জমা রাখা হয়, যাতে তারা কাউকে ফোন করতে বা ঘটনার অডিও-ভিডিও ধারণ করতে না পারেন।

অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সানি নেহালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিভাগের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ও কয়েকজন ছাত্রীও ক্লাসরুম ও হলকেন্দ্রিক ‘ম্যানার শেখানো’র নামে নবীনদের হয়রানিতে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
জাবিতে র্যাগিংয়ের অভিযোগে ৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার
অভিযোগ অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীকে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাম্পপোস্ট গণনা করতে পাঠানো হয়। আরেকজন লাইব্রেরির নাম ভুল বলায় তাকে লাইব্রেরির সামনে গিয়ে ছবি তুলে আনতে বলা হয়। কয়েকজনকে মেয়েদের হলের নাম ভুল বলার কারণে সংশ্লিষ্ট হলের সামনে গিয়ে সেলফি তুলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া এক শিক্ষার্থীকে একটি ভবনের পঞ্চম তলায় উঠে সেলফি তুলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে আসতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরতে না পারলে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এ নিয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ডিনদের কাছে নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ নাহিদকে শাহ আজিজুর রহমান হলে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখেন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সানি নেহাল। সেখানে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীও উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য নাহিদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে দেওয়া হবে না বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
এ বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে অভিযুক্ত সানি নেহাল র্যাগিং-সংক্রান্ত অভিযোগের কয়েকটি বিষয় আংশিক স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, এসব কার্যক্রমে তিনি একা জড়িত ছিলেন না। একই ব্যাচের প্রায় সবাই বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
আরও পড়ুন
র্যাগিং অমানবিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ: বেরোবি উপাচার্য
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নবীন শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার নাম জিজ্ঞাসা করা, ভুল উত্তর দিলে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা দেখে আসতে পাঠানো, পুরো ক্যাম্পাসের ল্যাম্পপোস্ট গণনা করতে বলা, একই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০-১২ বার পরিচয় নেওয়া এবং ভুল হলে কঠোর বা অশালীন ভাষায় বকাঝকা করা—এসব কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তিনি বলেন, ‘আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে। সবাই করেছে, কিন্তু নাম এসেছে শুধু আমার।’
পাঁচতলায় এক নবীন শিক্ষার্থীকে উঠিয়ে সেলফি তুলতে পাঠানোর বিষয়ে নেহাল বলেন, ‘আমি বুঝতে পারিনি বিষয়টি এত বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে। যাকে পাঁচতলায় পাঠানো হয়েছিল, সে আমাদের বন্ধু ছিল। এক বছর ড্রপ দিয়ে এখন জুনিয়র হিসেবে ভর্তি হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে মজা হিসেবে নিয়েছিলাম। তবে এখন বুঝতে পারছি, এটি ভুল হয়েছে।’

সানি নেহালের দাবি, ক্যাম্পাসের বাইরে কুষ্টিয়া শহরে অবস্থানরত নবীন শিক্ষার্থীদেরও ‘ম্যানার শেখানো’র নামে ডাকা হতো। সেখানে হাসিব, সানাউল, রোহান, সাদিদ, মুহি, ফাহিম ও সাদমানসহ কয়েকজন সিনিয়র উপস্থিত থাকতেন। তিনি আরও দাবি করেন, ক্লাসরুমে আনুষ্ঠানিক পরিচয়পর্বের সময় তাদের ব্যাচের প্রায় সবাই, এমনকি ছাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষায়, ‘বেশিরভাগ জুনিয়র আমাকে চিনত। তাই অন্যরা আমাকে দিয়েই জুনিয়রদের ডাকাতো।’
আরও পড়ুন
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধশত নবীন শিক্ষার্থীকে ৫ ঘণ্টা র্যাগিং
রক্ষা নেই ছাত্রাবাসেও
ক্যাম্পাসের বাইরে আনন্দনগরের ভাই ভাই ছাত্রাবাসেও র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এক ভুক্তভোগী প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের তিনজন সিনিয়র ও তাদের বাইরের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি তাদের ছাদে নিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখেন। পরে সিগারেটের ধোঁয়ায় ভরা একটি কক্ষে নিয়ে একজন একজন করে পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হয়। ভুল উত্তর দিলে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে একজন শিক্ষার্থী কান্না শুরু করলে মেসের সিনিয়ররা এসে তাদের উদ্ধার করেন।
অভিযুক্তদের নাম জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি এখানে নতুন, তাই সবাইকে চিনি না। তবে আপনারা খোঁজ করলে পাবেন।’
এর আগে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এক নবীন ছাত্রীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ছাত্রীর কাছ থেকে বারবার ফরমাল পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। ভুল হলে খারাপ মন্তব্য করা হয় এবং পরে ক্যাম্পাসে দেখা করতে বলা হয়। পরে ওই ছাত্রী অন্যান্য সিনিয়রদের জানালে বিষয়টি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।
আরও পড়ুন
র্যাগিং থেকে বের হতে পারছে না ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
এছাড়া একই বর্ষের আরও তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা নবীন এক শিক্ষার্থীকে ধূমপানে জোর করেন। এছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রাত ১টা পর্যন্ত আটক রাখা হয় এবং নারী শিক্ষার্থীদেরকে চা খেতে ডাকার জন্য ফোন দিতে বলা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন সিনিয়র নবীনদের ক্লাসে গিয়ে কয়েকজনকে দাঁড় করিয়ে গালিগালাজ ও অপমান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করা হয়।
২০২৪-২৫ সম্পূর্ণ ব্যাচের দ্বারা নবীন শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে ‘ম্যানার শেখাতে’ একাধিকবার বসা ও একজন নারী শিক্ষার্থীকে আলাদা রুমে ডেকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস প্রতিনিধি বলেন, ‘বিষয়গুলো আমাদের স্যার-ম্যামরা সমাধান করে ফেলেছেন। আমাদের মধ্যে আর কোনো রাগ-ক্ষোভ নেই। বিষয়গুলো নিয়ে আমি ক্লান্ত।’ পরে সাংবাদিকদের কাছে এগুলো বলতে ইচ্ছুক না বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
আরও পড়ুন
যৌন নিপীড়ন, বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধে ঢাবিতে নতুন পদক্ষেপ
পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ওরিয়েন্টেশনের পর থেকেই ‘ম্যানার শেখানো’র নামে সিনিয়ররা ক্লাসে এসে পরিচয় নেওয়ার নামে বারবার হয়রানি করতেন। ভুল হলে গালিগালাজ করা হতো, রাতে বিভিন্ন স্থানে ডেকে নেওয়া হতো। অনেকের মোবাইলফোনও চেক করা হতো।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানাতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একাধিক শিক্ষার্থীরা জড়িত বলে জানা যায়।
ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভাইয়েরা আমাদের ফরমাল পরিচয় শিখিয়েছেন। তবে তাদের শিখানোর পদ্ধতি এবং কয়েকজন ভাইয়ের আচরণ ও কথাবার্তায় ব্যাচের অনেকেই কষ্ট পেয়েছে। এ নিয়ে কয়েকজন সিনিয়রের বিরুদ্ধে বিভাগে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় / জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়ে ১০ মাস ক্লাস-পরীক্ষা, তদন্তে কমিটি
পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদেরও ক্লাসের বাইরে ফরমাল পরিচয়পর্ব হয়েছিল। এছাড়া আমাদের এক ব্যাচমেটকে নির্দোষ থাকা সত্ত্বেও সামান্য একটি বিষয় নিয়ে অপমান করা হয়। পরে বিষয়টি অবশ্য মিটমাট হয়ে যায়।’
আইন বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদেরও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভাইদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব হয়েছিল। তবে এসময় আমাদের এক বান্ধবীকে বারবার পরিচয় জিজ্ঞাসা করায় সে বিব্রত হয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়।’
আরেক ভুক্তভোগী ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘আমাদেরও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সিনিয়ররা ক্লাসে পরিচয়পর্ব নেন এবং ফরমাল পরিচয় শেখান। যারা পারেনি, তাদের দুই, তিন, চার, পাঁচবার পর্যন্ত পুনরাবৃত্তি করানো হয়। এতে অনেকেই বিব্রত হয়। আমরা নতুন ক্যাম্পাসে এসেছি, এখনো কিছুই ভালোভাবে জানি না। এর মধ্যে এসব অনেকের কাছেই খারাপ লাগে।’
আরও পড়ুন
ইবিতে ফের আবাসিক-অনাবাসিক খাবারের মূল্যে বৈষম্য
যা বলছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘র্যাগিংয়ের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। কেউ ফৌজদারি অপরাধ করলে তার ছাত্রত্বও চলে যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। কিছু বিষয় কানে এসেছে। আমরা বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বসেছি। তাদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
‘নবীন শিক্ষার্থীদের ‘পরিচয়পর্ব শেখানোর’ কোনো নিয়ম আছে কি-না’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো নিয়ম নেই। পরিচয়পর্বের নামে যা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতিদের কাছে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।’
ছাত্র উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে এরকম কোনো অভিযোগ এলে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগ না এসেও যদি প্রমাণ পাই, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
ম্যানার বা ফরমাল পরিচয়পর্ব শেখানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো নিয়ম নেই।’
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এ নিয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ডিনদের কাছে নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এসআর/জেআইএম








