হঠাৎ করেই গুঞ্জন ছড়িয়েছে—মারা গেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইলিয়াস কাঞ্চনের মিথ্যা মৃত্যুর খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নিসচার নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনটি জানিয়েছে, লন্ডনে চিকিৎসাধীন ইলিয়াস কাঞ্চন সুস্থ ও ভালো আছেন।

নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর সংবাদ প্রচার চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। একজন জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা করে খবর ছড়িয়ে দেওয়া শুধু তার পরিবার ও স্বজনদের জন্য নয়, অসংখ্য ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীর জন্যও গভীর মানসিক আঘাতের কারণ। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার আগে তার সত্যতা যাচাই করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। বিশেষ করে মৃত্যু, অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ বা শেয়ার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও এ বিবৃতিতে বলা হয়েছে। 

নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, “সবার আগে সংবাদ’ দেওয়ার প্রতিযোগিতা কখনোই সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প হতে পারে না। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের চেয়ে সংবাদটি সত্য কি না, তা নিশ্চিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যে অসংখ্য মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।” 

ক্ষুব্ধ লিটন এরশাদ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিতে কয়েক মিনিটই যথেষ্ট। কিন্তু সেই মিথ্যা তথ্যের কারণে একটি পরিবার, স্বজন ও লাখো ভক্ত যে মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যায়, পরে ‘ভুল সংবাদ’ বলে তা প্রকাশ করলেই সেই ক্ষতি পূরণ হয় না।” 

নিসচার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশের প্রায় ১২০টি শাখার নেতাকর্মী এ অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর গুজবের উৎস শনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

নিসচার পক্ষ থেকে ইলিয়াস কাঞ্চনের ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো মৃত্যুসংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত না হয়ে কোনো তথ্য শেয়ার না করারও অনুরোধ করেছে। 

সবশেষ ইলিয়াস কাঞ্চনের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, “গুজব নয়—যাচাই করা সত্য তথ্যই হোক সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিত্তি।” 

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ক্যানসার আক্রান্ত ইলিয়াস কাঞ্চন। দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় যুক্তরাজ্যে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা শেষে গত ৩ আগস্ট দেশে ফিরেছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত এই তারকা। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী-শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে দশ দিন সময় কাটিয়ে লন্ডনে ফিরে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। আপাতত সেখানেই চিকিৎসাধীন এই বরেণ্য শিল্পী।