দীর্ঘ ৬০ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ইংল্যান্ড। মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে থ্রি লায়ন্সরা।১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই ইংল্যান্ডের সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য। এর আগে ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে দুইবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামলেও উভয়বারই পরাজিত হয়ে চতুর্থ স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ইংলিশদের। এবার সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হৃদয়ভাঙা হারের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে থমাস টুখেলের শিষ্যরা ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাল।​ইংল্যান্ডের হয়ে এই ম্যাচে বুকায়ো সাকা হ্যাটট্রিক করেছেন। এছাড়া ডেকলান রাইস, এজরি কনসা এবং বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে জুদ বেলিংহাম একটি করে গোল করেন। ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে অসহায় করে তুলে প্রথমার্ধেই চার গোল করে ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে ইংল্যান্ড।ইংল্যান্ডের এই জয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদিও শিরোপা খরা কাটেনি, তবে ধারাবাহিকভাবে সেমিফাইনাল খেলা এবং প্রথমবারের মতো ব্রোঞ্জ পদক জয় ইংলিশ ফুটবলের জন্য একটি বড় ইতিবাচক বার্তা।​অন্যদিকে, ম্যাচটি ফ্রান্সের জন্য তাদের ফুটবল ইতিহাসের এক বিব্রতকর অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রায় এক শতাব্দী পর প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে চার গোল হজম করেছে লে ব্লুরা।পরিসংখ্যান বলছে, ১৯২৭ সালের পর এই প্রথমবার ফ্রান্স বিরতির আগেই চার গোল খেল। ফরাসি দলের দীর্ঘ ১৯০৪ থেকে যাত্রা শুরুর পর থেকে ৯০০-র বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। এর আগে ১৯২৭ সালের ১২ জুন হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বিরতির আগেই ছয় গোল খেয়েছিল তারা।​ম্যাচের প্রথমার্ধে তিন গোল হজমের ঘটনাও ফ্রান্সের ক্ষেত্রে প্রায় ৬৯ বছর পর ঘটেছে। সর্বশেষ ১৯৫৭ সালে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই তারা প্রথমার্ধে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল।তবে এবার বিরতির পর কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে ফ্রান্স ম্যাচে ফেরার লড়াই চালিয়েছিল। এমবাপ্পে জোড়া গোল করেন এবং ব্র্যাডলি বারকোলা ও উসমান দেম্বেলে একটি করে গোল করে ব্যবধান ৪-৩ এ নামিয়ে আনেন। কিন্তু বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা পেনাল্টি এবং শেষ সময়ে জুদ বেলিংহামের গোল ফ্রান্সের সব সম্ভাবনা শেষ করে দেয়।সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই বিব্রতকর রেকর্ডটি গড়ে উঠল দিদিয়ের দেশমের বিদায়ী ম্যাচে। ২০১২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা এই কোচের দীর্ঘ ১৪ বছরের সফল অধ্যায়ের ইতি ঘটল প্রায় এক শতাব্দীর সবচেয়ে বাজে রক্ষণাত্মক প্রথমার্ধের তিক্ত স্মৃতি নিয়ে।