ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইরানের ড্রোন হামলার পর অব্যবহৃত বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার সময় এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সামরিক কমান্ড (ইউএস সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে রক্তক্ষয়ী হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় এই ঘটনা ঘটলো। জর্ডানের সেই ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহাংশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সেন্টকম, যা বর্তমানে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তের কাজ চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা আট দিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চরম অবনতি ঘটেছে। উভয় পক্ষই একে অন্যের গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলছে। ওয়াশিংটন যেখানে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করেছে, অন্যদিকে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ ঘোষণা করে অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলা ত্বরান্বিত করেছে। এর ফলে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়লো।

হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা

সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক বিমান হামলাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানার ইরানি সক্ষমতা ধ্বংস করা ও জর্ডানে মার্কিন সেনার ওপর হামলার জন্য দায়ী ইরানের ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) কঠোর শাস্তি দেওয়া। চলতি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৫০০ জনেরও বেশি ইরানি নাগরিক আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে।

রোববার (১৯ জুলাই) ইরানি গণমাধ্যম জানায়, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দারখোভেন শহরে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কেশম দ্বীপে রাতে মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ওই পারমাণবিক স্থাপনাটি প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল ও সেখানে কোনো পারমাণবিক জ্বালানি বা উপাদান ছিল না।

ইরানের আইআরজিসি সতর্ক করে দিয়েছে যে, মার্কিন সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘দুর্ঘটনার’ মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনকারী কোনো জাহাজ এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করলে তাদের পরিণতি একই হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে তেহরান।

মিত্র দেশগুলোতে তোলপাড় ও জর্ডানের লাল দাগ

সংঘাতের পারদ গড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা চালানো হলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। খালিজ সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) বেসামরিক অবকাঠামোতে তেহরানের এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, জর্ডানের আকাশসীমায় তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। আকাবা বন্দরে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আম্মানস্থ ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জর্ডান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে- তাদের দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব একটি ‘রেড লাইন’ বা লাল দাগ, যা কোনোভাবেই অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি বাহিনীও তাদের সীমান্তে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ প্রতিরোধে ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করেছে।

সূত্র: বিবিসি

এসএএইচ