ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের সাত দিনের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জানাজা, শ্রদ্ধা নিবেদন ও শোক মিছিলের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাত দিনের এই শোক কর্মসূচিতে প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিনিধি ও বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রথম দিনেই গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জনসমাগম ঘটে। বিভিন্ন দেশের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি ইরানের স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিরাও শ্রদ্ধা জানান।

খামেনির মরদেহ শুক্রবার ভোরে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নেওয়া হয়। সেখানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হয়েছে। শনিবার ও রবিবারও মরদেহ সেখানে রাখা হবে। সোমবার তেহরানের বিভিন্ন সড়কে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর কোম, বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে শোকানুষ্ঠান শেষে আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে তাঁকে দাফন করা হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতির উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় শোক অনুষ্ঠানে ব্যাপক অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, খামেনির চিন্তাধারা ও উত্তরাধিকার ইরানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকবে এবং জাতীয় ঐক্য প্রদর্শনের এটিই উপযুক্ত সময়।

জানাজা ও শেষবিদায়ে অংশ নিতে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, কিউবাসহ প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিনিধি তেহরানে পৌঁছেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান সফর করছেন।

ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্পিকার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি ইরান সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধিদলও খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরানে গেছে।

অন্যদিকে, ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি ১৯৮৮ সালে ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন। একই দিনে তিনি ফ্লাইটটির ২৯০ নিহত যাত্রী এবং খামেনির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার মেজর জেনারেল আহমদ ওয়াহিদি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানি জনগণ খামেনির আদর্শ অনুসরণ অব্যাহত রাখবে এবং তাঁর উত্তরাধিকার সংরক্ষণ করবে।

The post ইরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু appeared first on ZoomBangla.