সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ইরানে চালানো ধারাবাহিক হামলায় ৩০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৫ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মোহাজেরানি বলেন, গত কয়েক দিনে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো হামলায় ৩০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করে মোহাজেরানি বলেন, সরকার তার সব ধরনের সামর্থ্য নিয়ে জনগণের পাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চল এই দেশের স্পন্দিত হৃদয়। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলই ইরানের আত্মা।
সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর থেকে এটি বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা প্রথম আনুষ্ঠানিক তথ্য।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।
সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে গট ১৮ জুন একটি সমঝোতায় পৌছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
কেএম








