বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক খাতে দেশটির বার্ষিক ব্যয় এক লাখ কোটি ডলারেরও বেশি। মধ্যপ্রাচ্যজুড়েও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সামরিক ঘাঁটি। কিন্তু ইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধে সেই সামরিক শক্তির বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে গেছে।

এর প্রভাব যুদ্ধের মাঠেও দেখা যাচ্ছে। ইরান এখনো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। অন্যদিকে মিত্রদের রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্রের মজুত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

অন্যদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে, এমন দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে করা হলেও তেহরান এখনো বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারছে। পাশাপাশি ব্যাপক সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যেও হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে নারাজ দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ শতাংশ থাড ও অর্ধেক প্যাট্রিয়ট শেষ

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমছে। একাধিক সূত্রের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন বাহিনীর থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার হয়ে গেছে। একই সময়ে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মজুতও প্রায় অর্ধেক কমেছে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ এরই মধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুত এখন ‘বিপজ্জনকভাবে কম’ পর্যায়ে রয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আধুনিক দুই ধরনের প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার প্রায় ২ হাজার ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৪৫২টি থাড ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহারের ফলে মজুত দ্রুত কমে গেছে।

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও দ্রুত কমছে

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে শুধু থাড ও প্যাট্রিয়ট নয়, যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমছে। মার্কিন সেনাবাহিনী আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এ ছাড়া টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একটি সূত্রের দাবি, যুদ্ধের সময় টমাহকের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার হয়ে গেছে। এর আগে এপ্রিল মাসে বলা হয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০ শতাংশ টমাহক ব্যবহার করেছিল।

মার্কিন বাহিনী

একটি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, আকাশ প্রতিরক্ষার ইন্টারসেপ্টর কমে গেলে ইরানের আত্মঘাতী ড্রোনগুলো বড় সংখ্যায় প্রতিরক্ষা ভেদ করে প্রবেশ করতে পারে। তার মতে, একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলা চালিয়ে এই যুদ্ধের শেষ হবে না।

উপসাগরীয় দেশগুলোও উদ্বিগ্ন

মার্কিন অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব দেশের অনেকেই ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা ঠেকাতে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় হামলা চালায়, তাহলে প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি এসব দেশের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

আরও পড়ুন>
চোরাবালিতে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, মুসলিম ‘ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের’ ডাক ইরানের
মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগ, তিনিই কি শেষ প্রেসিডেন্ট?
সৌদি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল আমদানি শূন্যের কোঠায়!

ট্রাম্পের হামলার পরিকল্পনা স্থগিত

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানে সম্প্রতি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চূড়ান্ত অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা থেকে সরে আসেন।

ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্পের শীর্ষ জেনারেল

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একটি পথ বা ‘অফ-র‍্যাম্প’ খুঁজছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। তার আশঙ্কা, যুদ্ধ আরও বাড়ালে সামরিক পদক্ষেপ উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। শুধু বিমান হামলা চালিয়ে ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনও কঠিন হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

গত কয়েক সপ্তাহে কেইন ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গেও সামরিক বিকল্প ও যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

ট্রাম্প স্থলসেনা পাঠাতে অনাগ্রহী। তার ধারণা, বিমান হামলার মাধ্যমেই ইরানকে চুক্তিতে রাজি করানো সম্ভব। তবে কেইনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, শুধু বিমান হামলায় এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন।

‘বিমান শক্তিরও সীমাবদ্ধতা আছে’

ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা এখন মনে করছেন, বিমান হামলারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কেইন গত মাসের শেষ দিকে আইনপ্রণেতাদের এক প্রকাশ্য শুনানিতেও এ কথা বলেছিলেন।

ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দেখছেন ট্রাম্প

স্থলবাহিনী ছাড়া কি ইরানকে পরাজিত করা সম্ভব?

ইরানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করেন কিছু কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষক। এমন অভিযানে স্থলসেনা পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে, যার ফলে হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।

তবে বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কেউই প্রকাশ্যে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না। বরং কেইন ও অন্য কর্মকর্তারা এমন একটি পথ খুঁজছেন, যাতে তুলনামূলক কম মাত্রার সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প একটি ‘প্রতীকী বিজয়’ দেখিয়ে যুদ্ধ থেকে বের হতে পারেন এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার পথও খোলা থাকে।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধ নিয়েও শঙ্কা

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার প্রভাব চীন, রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতেও পড়তে পারে।

মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ সপ্তাহেই প্যাট্রিয়ট ও থাডের রকেট মোটর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দুটি চুক্তি করা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের ফল কবে পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানায়নি প্রতিরক্ষা দপ্তর।

বিশ্লেষকদের মতে, প্যাট্রিয়টের মতো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ। ফলে যুদ্ধ-পূর্ব মজুত ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর লাগতে পারে। সিএসআইএসের হিসাবে, থাডের মজুত আগের অবস্থায় ফিরতে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ও জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইলের মজুত ২০২৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষ নাগাদ পুনরুদ্ধার হতে পারে।

আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা হলে প্রতিরোধ করবে ইরান

ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা হলে দেশটি তা মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার ভাষায়, নিজেদের অধিকার রক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ইরান প্রয়োজন হলে লড়াই চালিয়ে যাবে।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তারা যদি আমাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায়, আমরা লড়াই করবো। আমরা পিছিয়ে যাবো না, মাথাও নত করবো না।

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার কোনো প্রস্তাব মেনে নেওয়া হবে না। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোকে এক করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে একত্র করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন পেজেশকিয়ান। তবে তিনি বলেন, ইরান মুসলিম ঐক্যে বিশ্বাস করে এবং শিয়া-সুন্নি বিভেদকে মুসলিমদের আলাদা করার ভিত্তি হিসেবে দেখে না।

অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল বা সীমান্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও ইরানের নেই বলে দাবি করেন তিনি। বরং ইসরায়েল ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন পেজেশকিয়ান।

ইরানের ওপর বিদেশি হামলায় আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি। দক্ষিণ ইরানের মিনাব স্কুলে হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই হামলায় ১৬৮ জন নিহত হয় এবং হামলার জন্য ‘মুসলিম ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর’ ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছিল।

হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ

এদিকে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় থাকা একটি সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে ইরান। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ও দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে জাহাজের চলাচল ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে পরিচালনার বিষয়টি রয়েছে। তবে ‘নিয়ন্ত্রণ’ কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ফি নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। ইরান কার্গোর মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি চায়। ওমান প্রায় ৩ শতাংশের কথা বলছে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো ফি চায় না।

মোজতবা খামেনির ছবি হাতে সমর্থকরা

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, ওমানের সঙ্গে আলোচনায় মৌলিক সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে এবং চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি। তবে হরমুজ খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জুনের মাঝামাঝি করা সমঝোতার শর্তে ফিরতে হবে বলে ইরান জানিয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোকে পাল্টা হামলার হুমকি

কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

এরই মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী কিছু বাণিজ্যিক জাহাজও ইরানের অনুমতি ছাড়া চলাচলের অভিযোগে লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

আরও পড়ুন>
চোরাবালিতে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, মুসলিম ‘ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের’ ডাক ইরানের
মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগ, তিনিই কি শেষ প্রেসিডেন্ট?
সৌদি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল আমদানি শূন্যের কোঠায়!

কূটনীতির পক্ষে ট্রাম্প

লাস ভেগাসে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, তিনি চুক্তি করতে বেশি আগ্রহী, কারণ তিনি মানুষ হত্যা করতে চান না। তবে পরিস্থিতি খারাপ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছিলেন। কিন্তু এখন মার্কিন ভোটারদের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব এবং অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার চাপের মুখে তার অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

জুলাইয়ে দুই সপ্তাহের মার্কিন হামলার পরও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভাঙা যায়নি। বরং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

তেলের দামে বড় পতন

ট্রাম্প ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পর গত দুই দিনে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই সংঘাত তাই শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার সবকিছু মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ এখন নতুন এক বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে বিশ্বকে।

সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, আল-জাজিরা

এমএসএম