পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর থানায় বিরজু কেওট (৪৪) নামে এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি কাচরাপাড়া পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে থানার লকআপে অসুস্থ অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিরজুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হুমকি ও মারধরের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে হালিশহর থানার পুলিশ। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) তাকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করা হলে আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশের দাবি, শনিবার সকালে লকআপের ভেতরে বিরজু কেওটকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, থানার লকআপে বিরজুর ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল। সেই নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী জেনি শর্মা কেওট।
জেনি শর্মা বলেন, তার স্বামীকে রাজনৈতিক কারণেই গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পরদিন তার মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছিল। পরে শুক্রবার রাতে তিনি লকআপে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা করেন। তখন বিরজুকে সুস্থই দেখেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, মেডিকেল পরীক্ষায় যদি কোনো অসুস্থতা ধরা পড়ত, তাহলে থানার পক্ষ থেকে আমাদের জানানো উচিত ছিল।
এরপর পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন জেনি। তিনি দাবি করেন, লকআপে বিরজুর হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তার শরীরে এখনো নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জেনি শর্মা বলেন, আমি বিচার চাই।
এ ঘটনায় তিনি এরই মধ্যে কল্যাণী থানায় অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে তার স্বামীর মরদেহের ময়নাতদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিরজুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
এদিকে, বিরজু কেওট তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল।
পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ভিন্নতার কারণে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
ডিডি/এমএসএম
ডিডি/








