মুন্সিগঞ্জ সদর ও সিরাজদিখান উপজেলায় যাচাই-বাছাই কমিটির তদন্ত শেষে বাদ দেওয়া ২০ শিক্ষককে পুনর্বহাল করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পে এসব শিক্ষককে পুনর্বহাল করা হয়।

গত ২২ জুন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপ্রকল্প পরিচালক (কার্যক্রম) মো. মুরশিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁদের পুনর্বহালের অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এসব শিক্ষকের বকেয়া সম্মানী-ভাতা পরিশোধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আলেম সমাজ, অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের ১১ নভেম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশে মুন্সিগঞ্জ সদর ও সিরাজদিখানের মোট ২১ শিক্ষককে বাদ দেওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে জাল সনদ সরবরাহ, বার্ধক্যজনিত অযোগ্যতা এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবের প্রমাণ পায় যাচাই-বাছাই কমিটি। এ ছাড়া একজনের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ এবং অপর একজনের বয়স সরকার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় তাঁকে অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপরও ওই শিক্ষকের মধ্যে সিরাজদিখানের ১৭ জন সদরের তিনজনকে পুনর্বহাল করা হয়।

জানা গেছে, বাদ পড়া শিক্ষকেরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা উপপরিচালকের কার্যালয়ে পুনর্বহালের আবেদন করেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এসব শিক্ষকের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জনের কোরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ ছিল না। তাঁদের চার মাস সময় দিয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে ১৬ এপ্রিল পুনরায় পরীক্ষায় তাঁদের কিছুটা উন্নতি হলেও তিলাওয়াত পুরোপুরি শুদ্ধ হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের পুনর্বহালের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া জাল সনদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ ওঠা এক শিক্ষককেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার পর মুন্সিগঞ্জ জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. সাহাবুদ্দীন তাঁর সুপারিশপত্রে উল্লেখ করেন, ‘সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে কর্মরত। নতুন নিয়োগে পর্যাপ্ত যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় শূন্য পদ পূরণের স্বার্থে তাঁদের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।’

শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পরও পুনর্বহালের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সিরাজদিখানের আলহেরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল জলিল বলেন, যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। অযোগ্যদের পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

এ বিষয়ে জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি যেভাবে মন্তব্যসহ প্রতিবেদন আমাদের কাছে পাঠিয়েছে, আমরা সেভাবেই অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। পরে অধিদপ্তর থেকেই ওই ২০ জন শিক্ষককে পুনর্বহালের অনুমোদন দিয়ে আমাদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে জেলা কার্যালয়ের আলাদাভাবে কিছু করার সুযোগ ছিল না।’

জানতে চাইলে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশে আমাদের উপজেলার ১৭ জন শিক্ষককে বাদ দিই এবং যাচাইয়ে উত্তীর্ণদের তালিকা জেলা কার্যালয়ে পাঠাই। কিন্তু পরে আমাদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ওই ১৭ জনকেই পুনর্বহাল করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানিয়েছি। বিষয়টি অধিদপ্তরেও অবহিত করার প্রস্তুতি নিয়েছি। এ ছাড়া তাঁদের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’