পাবনার ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহীর বানেশ্বর পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার দুই বছরের মধ্যেই ঈশ্বরদী সীমানার বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরার পাশাপাশি গর্ত হয়ে দেবে যাচ্ছে। দু-তিন দিনের বৃষ্টিতে সড়কের কয়েকটি অংশে বিটুমিন ও পাথর উঠে যাওয়ায় যান চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বালু, ইট ও খোয়া ফেলে অস্থায়ী সংস্কারের কাজ করছে।
অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণকালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সুষ্ঠু তদারকির অভাব এবং কাজের গুণগতমান ঠিক না থাকায় দুই বছরের মধ্যেই সড়কটির এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়িয়া বাজারের পল্লি চিকিৎসক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘সংস্কারের প্রথম দিকে কাজের গুণগতমান খারাপ দেখে এলাকাবাসী হিসেবে আমরাও প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু তখন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কিছু লোকজনের বাধার কারণে আমরা প্রতিবাদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হই। এখন তো সড়কের অবস্থা বেশ খারাপ হয়েছে। আরামবাড়িয়া বাজার ও আসনার গেটবাজার স্থানে ছয় স্থানে এবং আব্দুর রহিম গার্ডের বাড়ি থেকে হাতেমের বাড়ি পর্যন্ত আরও পাঁচ-ছয়টি স্থানে সড়কে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।’
সড়ক-সংলগ্ন ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান জীবন বলেন, ‘সড়কের কাজের মান ভালো না হওয়ায় সেসময় বেশ কয়েকবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।’
গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে রেলগেট হয়ে সাঁড়ার আরামবাড়িয়া বাজার পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই সড়কের দুপাশের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। সাত কিলোমিটার সড়কের ২০টির বেশি স্থানে ফাটল এবং কিছু অংশ দেবে গেছে।
পোস্ট অফিস মোড়ের আরআরপি ভবন মার্কেটের সামনে সড়ক উঁচুনিচু ও দেবে গেছে। শহরের রেলগেট লেভেলক্রসিং মোড়ে শোচনীয় অবস্থা দেখা গেছে। রেলগেট মোড়ের পশ্চিম পাশের দুটি স্থানে বিটুমিন ও পাথর উঠে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
যানবাহন ও পথচারী চলাচলে ভোগান্তি বাড়লে গতকাল সোমবার থেকে পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ বালু ও ইট বিছিয়ে কোনো রকম গর্ত ভরাটের চেষ্টা করে। আরামবাড়িয়া বাজারে ঢালাইয়ের শেষাংশসহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাথর উঠে গেছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগ এবং পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বানেশ্বর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কটির সংস্কারকাজ ২০২৪ সালের জুন মাসে শেষ হয়েছে। ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের মধ্যে ঈশ্বরদী অংশে ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার ও প্রশস্তকরণ করা হয়। এ জন্য ‘ডন মোজাহার এন্টারপ্রাইজ’ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫৭ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
সওজ রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরীন ঝিনুক মুঠোফোনে বলেন, ‘সাধারণত সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে এমন হয়ে থাকে। তবে সড়কের অবস্থা না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে পাবনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, নিয়মের বাইরে কিছু হয়েছে কি না, তা তিনি বলতে পারছেন না। কারণ, বানেশ্বর-ঈশ্বরদী সড়ক সংস্কার প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার অনেক পরে তিনি পাবনা অফিসে যোগ দিয়েছেন। তবে বিষয়টি তিনি খোঁজ নেবেন। একই সঙ্গে ভাঙা সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান।








