কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তিস্তার পানির উচ্চতা কুড়িগ্রামের প্রবেশপথে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে স্থিতিশীল আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পাউবোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
দুধকুমার নদের পানির উচ্চতা ভূরুঙ্গামারীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে দিনভর ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
একই সময়ে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানির উচ্চতা সবকটি পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ সন্ধ্যার পর নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ও বামনডাঙা ইউনিয়নে নদের মধ্যবর্তী ফান্দেরচর গ্রামের নিচু এলাকার কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে।
দুপুরে বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে এবং উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম, অরুণাচল ও পশ্চিমবঙ্গে মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দুধকুমার নদের তীরবর্তী ফান্দেরচর গ্রামের বাসিন্দা জামিউল বলেন, ‘সোমবার দুপুরের পর থাইকা খুব জোরে পানি বাড়ছে। গত দুই দিনে দেড় হাত বাড়ছে। কিছু মাইনষের বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। পানি বাড়তে থাকলে আরও বাড়ি ঘরে পানি ঢুকব।’
পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস থাকলেও পানি বৃদ্ধির হার কিছুটা কম বলে মনে হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের কিছু জায়গা প্লাবিত হতে পারে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের যেসব স্থান দুর্বল রয়েছে সেগুলো মেরামতে কাজ চলমান।’








