ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, চাঁদাবাজি ও টেলিফোনে হুমকির ঘটনা সারা দেশে এই শিল্পের জন্য গভীর নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট সেবাদানকারীদের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন আইএসপিএবির চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার রুবেন্স।
এর আগে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ব্যানার, ফেস্টুনসহ একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় চট্টগ্রামের ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাজিব শাহরিয়ার রুবেন্স বলেন, গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) চট্টগ্রামে ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে চাঁদার দাবিতে সংঘটিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরনের ঘটনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আইএসপি মালিক ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি, টেলিফোনে হুমকি, চাপ প্রয়োগ ও দাবি পূরণ না হলে হামলা বা হয়রানির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এই ধরনের পরিস্থিতি সমগ্র আইএসপি শিল্পের জন্য গভীর নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে।
রাজিব শাহরিয়ার রুবেন্স আরও বলেন, ‘বর্তমানে ইন্টারনেট দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প-কারখানা, ব্যাংকিং, ই-কমার্স, সরকারি ও বেসরকারি প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং নাগরিক সেবার অন্যতম মৌলিক অবকাঠামো। আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিরাপদ পরিবেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু একটি শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজিব শাহরিয়ার বলেন, ‘এই ধরনের নিরাপত্তাহীনতা যদি অব্যাহত থাকে এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে দেশের ইন্টারনেট সচল রাখা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। আমরা এমন কোনো পরিস্থিতি প্রত্যাশা করি না, যেখানে জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেও আইএসপি খাতকে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুখোমুখি হতে হবে।’
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে ডিডিএন কার্যালয়ে সংঘটিত হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, দেশের সব আইএসপি প্রতিষ্ঠান, তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, আইএসপি খাতের বিরুদ্ধে সংঘটিত চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হয়রানিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইএসপি শিল্পের জন্য একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।








