জামালপুরের বকশীগঞ্জে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। নোয়াখালীর চাটখিলে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা এবং খাগড়াছড়ির রামগড়ে সাত বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে তরুণী ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে নারীসহ তিন আসামিকে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
জামালপুর ও বকশীগঞ্জ : বকশীগঞ্জ উপজেলায় গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্যসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। সোমবার জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু, বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, জুয়েল মিয়া, জসিম ও আছমত। আসামি ইদ্রিস আলীকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
ট্রাইব্যনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, গত বছরের ২৫ মে রাতে গৃহবধূ শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ঝগরাচর বাজার থেকে ইদ্রিস আলীর ইজিবাইকে জামালপুরের বকশীগঞ্জে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি থামিয়ে গৃহবধূকে একটি ভ্যানে তুলে নেয় আসামিরা। পরে নিলাক্ষিয়া উত্তরপাড়ার ফরিদ মিয়ার পরিত্যক্ত রান্নাঘরে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় তারা। নোয়াখালী : চাটখিলে শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় শাহাদাত হোসেন নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সোমবার জেলার বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাত উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে। ট্রাইব্যুনালের পিপি সেলিম শাহী বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ওই শিশু। নয় দিন পর বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকি থেকে আসামির তথ্যের ভিত্তিতে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শাহাদাত আদালতে জবানবন্দিতে জানায়, ধর্ষণের পর ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় সে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং লাশ সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে রাখে।
খাগড়াছড়ি : রামগড়ে শিশু ধর্ষণ মামলায় মো. শাহিন নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার বিচারক শায়লা শারমিন এ রায় দেন। এ সময় আসামি মো. শাহিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৃজনী ত্রিপুরা মাত্র এক বছরের ব্যবধানে রায় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত বছরের ২৫ জুলাই রামগড়ে খাবারের লোভ দেখিয়ে সাত বছর বয়সী দ্বিতীয় শ্রেণির মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ করে মো. শাহিন।’
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। দণ্ডিত আসামির নাম মো. রাজীব। সোমবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক এসএম জিয়াউর রহমান এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দীন। দণ্ডিত আসামিকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন রাজীব।
গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে তালের পিঠা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি উজ্জ্বল বিশ্বাসকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ধর্ষণের কাজে সহায়তা করার অপরাধে ২ নম্বর আসামি কল্পনা বিশ্বাসকেও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার গোপালগঞ্জের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। ২০২০ সালের ৩ অক্টোবর কাশিয়ানী উপজেলায় ওই ছাত্রীকে কৌশলে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে উজ্জ্বল বিশ্বাস। তাকে সহযোগিতা করেন দ্বিতীয় আসামি উজ্জলের প্রতিবেশী কাকিমা কল্পনা বিশ্বাস।








