নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরে জব্দ করা চারটি অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও জাল ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুটি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) হাওরে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া জালগুলোর একটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (১১ জুলাই) জেলার মোহনগঞ্জ ডিঙ্গাপোতা হাওরে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের অভিযোগে চারটি বড় জাল জব্দ করে আদর্শ নগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আনা হয়। পরে সেগুলো তদন্ত কেন্দ্রের নিচতলায় রাখা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, পরদিন রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ৪০ থেকে ৫০টি নৌকায় করে কয়েকশ মানুষ সেখানে এসে জোরপূর্বক জালগুলো নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের কাজে বাধা দেওয়া হয়।

আদর্শ নগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই রাসেল পারভেজ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জালগুলো জব্দ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

তার দাবি, পুটিউগা গ্রামের শামসুদ্দিন তালুকদারের ছেলে জুয়েলের নেতৃত্বে জাল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের কাজ চলছে।

এসআই রাসেল পারভেজ আরও বলেন, সরকারি কাজে বাধা এবং মৎস্য আইনসহ পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, সোমবার হাওরে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া জালগুলোর একটি উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জুয়েল। তিনি বলেন, জাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হাওরের জেলেদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে তিনি শুধু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের বিষয়ে জুয়েলের দাবি, এ ধরনের জাল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ এ তথ্য তার জানা ছিল না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে বলেন, ডিঙ্গাপোতা হাওরে গত ২৮ জুন পর্যন্ত মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল, যা তারা মেনে চলেছেন।

তাদের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে বছরের এ সময়ে মাছ ধরায় আগে কখনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। ঋণ নিয়ে জাল কিনেছেন তারা। বর্তমান মৌসুমে মাছ ধরতে না পারলে হাওর এলাকার অনেক জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে। তবে আদর্শ নগরে জাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তারা।

এইচ এম কামাল/এসজেডএইচ