জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাইমের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল থেকে জিএস পদে মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলীর স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জকসুর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় হামলার ঘটনার প্রায় ৭০ দিন পার হলেও বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এক সপ্তাহের মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম দেন জকসুর নেতারা।
আরও পড়ুন
জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড়, বহিষ্কার ছাত্রদল নেত্রী
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এখনো চূড়ান্ত বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। অভিযুক্তকে কেবল সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি সাময়িক বহিষ্কারাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায়ও তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনের দ্বৈত নীতির বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেন তারা।
জকসুর শিক্ষা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে বিচার পেতে ৭০ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এটি প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবের প্রমাণ। প্রত্যক্ষ প্রমাণ থাকার পরও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বারবার প্রতিবাদ করলেও প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়নি। একজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার বিচার যদি নিশ্চিত না হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা কোথায়?
আরও পড়ুন
জকসু ক্রীড়া সম্পাদককে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি
তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে যথেষ্ট সময় দিয়েছি। কিন্তু তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই আজ রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। জকসুর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, যার যত বড় রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবই থাকুক না কেন, এক সপ্তাহের মধ্যে অভিযুক্তকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় জকসু আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
মানববন্ধনে জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, জর্জিস আনোয়ার নাইমের ওপর হামলার প্রায় ৭০ দিন পার হয়ে গেলেও প্রশাসন কোনো কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। অতীতেও উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, প্রক্টর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসন বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যতদিন বিচার নিশ্চিত না হবে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে। আগামী দিনগুলোতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। হামলাকারীদের বিচার না করে প্রশাসন অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
আরও পড়ুন
জকসুর নামে আদায় করা অর্থ এখনো দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন: ভিপি
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার নিশ্চিত হয়নি। প্রশাসন দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। বরং সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনের দ্বৈত নীতির পরিচয় বহন করে।
তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ এতদিন সংযম দেখিয়েছে। তবে আমাদের দুর্বল ভাবার কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ১৭ হাজার শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্যও জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে। প্রশাসনকে সঠিক পথে ফিরে আসতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে জর্জিস আনোয়ার নাইমের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সাদিয়া সুলতানা নেলীর স্থায়ী বহিষ্কার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে জকসুর পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
টিএইচকিউ/এমএমকে








