‎‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং জবি শাখার ইনকিলাব মঞ্চের সভাপতি নূর মোহাম্মদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী কলেজের ‎আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন।‎ ‎তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘বিকেলে কলেজে কেউ থাকার কথা না। আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।’

‎ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার ছাত্রদলের হামলায় আহত ইনকিলাব মঞ্চের এক নারী শিক্ষার্থীকে দেখতে সংগঠনের সদস্যরা সোহরাওয়ার্দী কলেজের দিকে যান। সে সময় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।

‎‎হামলার শিকার নূর মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের এক আপুকে দেখতে যাচ্ছিলাম, যিনি ছাত্রদলের গতকালের হামলায় আহত হন। আমরা ৫ জন সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে ফল কিনে অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় ২০-২৫ জন আমাদের ঘিরে ধরেন। এরপর ভিডিও কলে কারও কাছ থেকে নিশ্চিত হন যে এটি জকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লাঠি ও কাঠ নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।’

‎নূর মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘অত্যন্ত নির্মমভাবে আমাদের মারধর করা হয়েছে। পেটানোর একপর্যায়ে আমরা সবাই রাস্তায় শুয়ে পড়ি। কিন্তু শুয়ে পড়ার পরও তারা ক্ষান্ত হয়নি। অনবরত লাথি মারতে থাকে এবং “পালা, পালা” বলে চিৎকার করতে থাকে।’‎

‎হামলার শিকার জবি ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন তাসিন বলেন, মাগরিবের আজানের কিছুক্ষণ আগে জবি ইনকিলাব মঞ্চের ৫ জন সদস্য আহত মিমকে দেখতে যাওয়ার জন্য সোহরাওয়ার্দী কলেজের বিপরীতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় জবির দুজন শিক্ষার্থী বাসায় যাওয়ার পথে তাঁদের দেখে আলাপ শুরু করেন।

‎‎তাসিন অভিযোগ করেন, ‘এরপর ১৫-২০ জনের একটি দল (পরে জানতে পারি সোহরাওয়ার্দী ছাত্রদলের জসিম গ্রুপ) আমাদের সামনে এসে জিজ্ঞেস করে আমরা কোথায় পড়ি। একই সঙ্গে ভিডিও কলে থাকা একজনকে দেখিয়ে বলে—“ভাই, দেখেন তো এ জকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক কি না?” ওপার থেকে ইতিবাচক সাড়া আসার পরপরই তারা কাঠের খুন্তি (বাটামসদৃশ) দিয়ে আমাদের এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। নূর ভাইকে টার্গেট করে প্রথমে সিঁড়ির ওপর ফেলে মাথা, হাত ও পায়ের গিরায় পেটানো হয়। দ্বিতীয় ধাপে তাঁকে রাস্তায় ফেলে অমানুষিকভাবে পেটানো হয়।’

‎তাসিন বলেন, হামলায় তাঁর ছোট ভাই রাকিব, আলফাজ ও আবু বকর জখম হয়েছেন। তাঁরা চিকিৎসাধীন। হামলার সময় তাসিন নিজে পালিয়ে একটি মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডের দোকানে আশ্রয় নেন এবং পরে নিরাপদ স্থানে পৌঁছান।

‎‎এ বিষয়ে জকসু জিএস ও ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কর্মীরা জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, হামলাকারীদের এখনই বিচারের আওতায় আনুন। নইলে আজ যারা অন্যের ওপর হামলা করছে, কাল তারা আপনার ওপরও হামলা করবে।’

‎‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

‎‎এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কেবলই অবগত হলাম। যে-ই হোক না কেন, সে জগন্নাথের ছাত্র। তার ওপর বহিরাগতদের হামলা কাম্য নয়। সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’