বাজারে জাল নোটের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘জাল মুদ্রা প্রতিরোধ আইন’-এর খসড়া তৈরি করেছে সরকার। নতুন এই আইনে জাল নোট তৈরি, বাজারজাতকরণ বা নিজের কাছে রাখলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে; যা জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। এছাড়া জাল নোট শনাক্ত ও বিচারের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অফিসারকে নোট শনাক্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এ আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। অংশীজনের মতামত নেওয়ার জন্য এটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনের অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছেও পাঠানো হয়েছে। এর আগে আইনের একটি খসড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। খসড়ায় জাল নোট তৈরি, বাজারজাতকরণ, পরিবহণ, সংরক্ষণ ও লেনদেন করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। জাল নোট চূড়ান্তভাবে যার হাতে পাওয়া যাবে তাকেই আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। আইনে জাল নোটের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা, জাল নোট জব্দ ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য পৃথক আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নোটের কোনো অংশ মুছে ফেলে বিকৃত করে তা বাজারে প্রচলনের চেষ্টা, রাসায়নিক ছাপ মুছে নোট বাজারে চালানোর চেষ্টা, বিভিন্ন নোটের বিভিন্ন অংশ বা একই মানের বিভিন্ন নোটের বিভিন্ন অংশ জোড়া দিয়ে নোট বাজারে প্রচলনের চেষ্টা করলেও তা জাল হিসাবে গণ্য হবে। কোনো সাধারণ ব্যক্তি যিনি জাল নোটের চক্রের সঙ্গে জড়িত নন, কিন্তু জেনেশুনে জাল নোট নিজের কাছে রেখেছেন এমন হলে তিনিও আইনের আওতায় আসবেন।
একই সঙ্গে নোট তৈরির উপকরণ আমদানি বা রপ্তানি, ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টিং উপকরণ ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরিবহণও আইনে অধরাধ হিসাবে গণ্য হবে। এসব উপকরণ জব্দ বা ধ্বংস করার বিধানও রাখা হয়েছে নতুন আইনে।
নতুন খসড়ায় জাল নোট শনাক্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অফিসারকে। সন্দেহজনক কোনো নোট জাল কিনা সেটি পরীক্ষা করে তিনিই একটি প্রত্যয়নপত্র দেবেন। আদালতে এটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসাবে গণ্য হবে।
খসড়ায় জাল নোটের প্রচলন রোধে এ ধরনের অপরাধে আটক ব্যক্তিদের জামিন দেওয়ার বিধান রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অপরাধে যারা গ্রেফতার হবে, বিশেষ করে তাদের জামিন দেওয়া যাবে না। এ ধরনের ঘটনা আদালতের বাইরে আপস মীমাংসাও করা যাবে না।
জানা গেছে, জাল নোট প্রতিরোধে বর্তমান আইনটি নানা দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ। এতে অপরাধের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। বিচার প্রক্রিয়া বেশ বিলম্বিত। বেশির ভাগ ঘটনার কোনো সাক্ষী পাওয়া যায় না। ফলে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে জাল নোটের বিষয়ে ৭ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।








