বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন চাচার ভাড়াটে বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত নেতার নাম সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১)। তিনি দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি ছিলেন এবং উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের ছেলে।

এর আগে, গত ১ জুলাই রাতে মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দ ও তার স্ত্রীকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার আব্দুল করিম আকন্দ দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক।

জানা গেছে, ভেলুরচক গ্রামের বাসিন্দা রফিক আকন্দের সঙ্গে তার ছোট ভাই স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৫ জুন দুপুর ১২টার দিকে আলোহালী গ্রামে ওই পৈতৃক জমিতে জোরপূর্বক মাপজোক করতে যান আব্দুল করিম ও তার সহযোগীরা। লোহার রড, কোদাল, চাপাতি ও লাঠিসোঁটায় সজ্জিত হয়ে ২০-২৫ জন লোক জমি জবরদখল করতে এলে বড় ভাই রফিক আকন্দ বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে করিমের সঙ্গে থাকা লোকজন রফিক আকন্দের ওপর চড়াও হয়।

এ সময় বাবাকে বাঁচাতে ছেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পা এবং মা জোসনা বেগম (৬২) এগিয়ে এলে তাদের ওপরও উপর্যুপরি হামলা চালানো হয়। এসময় লাঠির আঘাতে সম্রাট মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। মা জোসনা বেগমকেও মারধর করা হয়। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রফিক ও জোসনা বেগম চিকিৎসা নিলেও সম্রাটের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ঢাকার হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে টানা ৯ দিন লাইফ সাপোর্টে মুমূর্ষু অবস্থায় থাকার পর শনিবার রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় আব্দুল করিম আকন্দসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয়ে বেশ কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ১ জুলাই রাতে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানাধীন দাড়ারকুল গ্রামে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত আব্দুল করিম (৬০) ও তার স্ত্রী মিথিলা আক্তারকে (৪০) গ্রেফতার করেন।

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান বলেন, মূল অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীসহ দুইজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, এটি মূলত পারিবারিক জমিজমা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যকার বিরোধের জেরে ঘটেছে। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা।

জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, সম্রাট হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িত সকল আসামির দ্রুত শাস্তির দাবিতে দুপচাঁচিয়ায় জানাজা শেষে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের দলীয় কোনো পদে বা দলে আছেন কি না, সে বিষয়ে বর্তমানে তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

তিনি বলেন, শুনেছি এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক দ্বন্দ্ব। দল কখনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেয় না। যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তবে দেশের প্রচলিত আইনে অপরাধী তার শাস্তি পাবে। এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।

কেএইচকে/এএসএম