ডেভিড কর্নওয়েল-সারাটা জীবন যিনি ছিলেন অদ্ভুত কুহেলিকায়। ‘জন লে কারে’ ছদ্মনাম ধারণ করার অনেক আগে, তার প্রথম উপন্যাস ‘কল ফর দ্য ডেড’ (১৯৬১) প্রকাশিত হওয়ার অনেক আগে, এমনকি যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান এবং পাঠকনন্দিত ঔপন্যাসিক হিসাবে খ্যাতি পাওয়ারও ঢের আগে থেকেই রহস্য আর গোপনীয়তা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। তার লেখা বহু গোয়েন্দা কাহিনি চলচ্চিত্র কিংবা টেলিভিশন সিরিজে রূপায়িত হয়েছে। বোদ্ধাদের চোখে তিনি ছিলেন এক ‘অভিজাত এবং নৈতিকভাবে দ্ব্যর্থবোধক লেখক’, যাকে যুদ্ধোত্তর যুগের অন্যতম সেরা ঔপন্যাসিক হিসাবে গণ্য করা হয়। কিন্তু এই যে সত্য আর মিথ্যার সীমানায় দাঁড়িয়ে গল্প বুনে যাওয়ার অসামান্য ক্ষমতা, তার বীজ বোনা হয়েছিল তার শৈশবেই। প্রবঞ্চনা আর আত্মনির্ভরশীলতার পাঠ তিনি পেয়েছিলেন বাবার কাছ থেকে।

‘বাবা আমাদের বলেছিলেন বার্কশায়ারের বোর্ডিং স্কুলের ড্রাইভওয়ের শেষ মাথায় অপেক্ষা করতে। তিনি নিজে স্কুলের সামনে আসতে চাননি, কারণ তিনি স্কুলের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেননি। কিন্তু আমরা নিষ্পাপ শিশুরা তো আর তা জানতাম না,’ ২০০৮ সালে বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে এভাবেই স্মৃতিচারণ করেছিলেন লে কারে। ‘তাই আমরা আমাদের স্যুটকেসগুলো নিয়ে ড্রাইভওয়ের শেষ প্রান্তে লজের কাছে অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিন্তু সেই পুরো দিনেও তিনি আর এলেন না।’

বাবা রনি কর্নওয়েল ছিলেন একজন পেশাদার প্রতারক বা ‘কন ম্যান’, যার শৈশব-কৈশোর কেটেছে জেলের ভেতরে আর বাইরে। বাবার এমন চরম অবহেলা আর বিশ্বাসভঙ্গের পর দুই ভাই যা পেরেছিলেন করেছিলেন-অন্তত সহপাঠীদের সামনে নিজেদের আত্মসম্মানটুকু বাঁচাতে। ‘আমরা পুরোটা দিন স্কুল থেকে দূরেই কাটিয়ে দিলাম। আমাদের কাছে কোনো খাবার ছিল না, কোনো টাকা ছিল না। কিন্তু আমরা কিছুতেই হার মেনে স্কুলে ফিরে গেলাম না। সারা দিন বাইরে বাইরে ঘুরে সন্ধ্যায় যখন ফিরলাম, তখন সবার সামনে এমন ভান করলাম যেন আমাদের দিনটি দারুণ কেটেছে।’

বাবার প্রতি মোহভঙ্গ আর তীব্র অভিমানে নীল হওয়ার সেটিই ছিল তার প্রথম স্পষ্ট স্মৃতি। অথচ এ যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতাই তাকে এমন এক জীবনমুখী শিক্ষা দিয়েছিল, যা পরবর্তীকালে তার লেখার জগতেও কাজে লেগেছিল। লে কারের ভাষায় : ‘গুপ্তচরবৃত্তির পরিভাষায় এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয় : যখন কোনো গোপন সাক্ষাৎ ব্যর্থ হয়, তখন আপনাকে দ্রুত একটি ছদ্ম-কাহিনি তৈরি করে নিতে হয়। আপনাকে ফিরে এসে এমন ভান করতে হয় যেন কিছুই হয়নি।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনগুলোতে, যখন ডেভিডের স্কুলের অন্য সহপাঠীরা তাদের বাবাদের বীরত্বের গল্প নিয়ে মেতে থাকত, তখন লে কারেকে বাঁচতে হতো এক কাল্পনিক দ্বৈত জীবন নিয়ে। ২০১৫ সালে বিবিসির সঙ্গে আলাপে তার জীবনীকার অ্যাডাম সিসম্যান বলেছিলেন, ‘তিনি এমন এক সময়ে বড় হচ্ছিলেন, যখন বাবারা যুদ্ধে কী অবদান রাখছেন, তা ছিল অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। কিন্তু ডেভিড তার বাবাকে নিয়ে লজ্জিত ছিলেন... কারণ তার বাবা ছিলেন ‘স্পিভ’ (কালোবাজারি, যিনি যুদ্ধের বাজারে অবৈধভাবে পণ্য বিক্রি করে মুনাফা লুটতেন)। যখন অন্য সবার বাবা যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করছেন, তখন তার বাবা ব্যস্ত কালোবাজারিতে।’ এই গ্লানি আড়াল করতে লে কারে বন্ধুদের কাছে বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলতেন যে, তার বাবা আসলে একজন গোপন স্পাই।

বাবার এ বীরত্বের মেকি আবরণ এবং শৈশবের সেই জটিল মানসিক দ্বন্দ্বই পরবর্তী সময়ে রূপ নিয়েছিল তার কালজয়ী উপন্যাসগুলোয়। তার উপন্যাসের চিরচেনা ও বারবার ফিরে আসা নায়ক জর্জ স্মাইলি ছিলেন মূলত জেমস বন্ডের সম্পূর্ণ বিপরীত এক চরিত্র-একটি ‘অ্যান্টি-জেমস বন্ড’ চরিত্র। মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিকের ভাষায় স্মাইলি ছিলেন, ‘আমলাতান্ত্রিকভাবে জরাজীর্ণ, মাঠপর্যায়ে যাকে খুব কমই দেখা যায়... আর নিজেকে আড়াল করে রাখার ক্ষেত্রে যার বিনয় চরম পর্যায় স্পর্শ করে।’ জেমস বন্ডের মতো তিনি কোনো চটকদার সংলাপ আওড়ান না, কিংবা ট্যারট কার্ড রিডারদের সঙ্গে প্রেমে মজে যান না। লে কারে সজ্ঞানেই বন্ডের সেই চাকচিক্য ও গ্ল্যামার এড়িয়ে চলেছিলেন তার স্মাইলি চরিত্রের ক্ষেত্রে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিবিসিকে বলেছিলেন, স্মাইলিকে তিনি ইচ্ছা করেই বানিয়েছিলেন ‘স্থূলকায়, শারীরিক শ্রীহীন এবং একজন অত্যন্ত আনাড়ি পোশাকের মানুষ’ হিসাবে। ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য স্পাই হু কেম ইন ফ্রম দ্য কোল্ড’-এ লে কারে দেখিয়েছেন গুপ্তচরবৃত্তির সেই ধূসর, ক্লান্তিকর ও প্রাত্যহিক রূঢ় বাস্তবতাকে। এ জগৎটি তার খুব চেনা ছিল, কারণ ১৯৫২ সাল থেকে তিনি নিজে এমআই-ফাইভ (MI5) এবং পরবর্তীকালে এমআই-সিক্স (MI6)-এর হয়ে একজন ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করেছিলেন।

সিসম্যানের মতে, বাবার সঙ্গে ডেভিডের এই অম্লমধুর ও জটিল সম্পর্কটি আজীবনই বহাল ছিল। ‘রনি কর্নওয়েলের কোনো সুনির্দিষ্ট সীমারেখা ছিল না-অনেক দিক থেকেই তিনি ছিলেন এক ধরনের মানসিক বিকারগ্রস্ত। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি বৃদ্ধাদের সারা জীবনের সঞ্চয়টুকুও অনায়াসে হাতিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু একইসঙ্গে, তিনি তার ছেলেদের মন থেকে ভালোবাসতেন।’

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ডেভিডের মা তাকে ছেড়ে চলে যান। কিন্তু রনি পাশে ছিলেন, যদিও সেই থাকাটা ছিল খুবই অনিয়মিত এবং আকস্মিক। সিসম্যান বলেন, ‘রনি যখনই তার জীবনের শেষভাগে এসে ডেভিডকে ফোন করে বলতেন, ‘বাবা, আমার কিছু টাকা লাগবে, আমাকে একটু উদ্ধার করো’, ডেভিড সঙ্গে সঙ্গে তার চেক বইয়ের দিকে হাত বাড়াতেন এবং অবলীলায় তার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ত। বাবার প্রতি ডেভিডের এ অনুভূতিটি ছিল ভালোবাসা আর ঘৃণার এক অদ্ভুত দোলাচল, এক অমীমাংসিত বেদনা।’

লে কারে নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, রনি শুধু তার ভেতরে গোয়েন্দা মনোভাবের ভিত্তিটাই গড়ে দেননি, বরং তার লেখার ধরন এবং কাল্পনিক জগৎ সৃষ্টির ক্ষমতাকেও ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। বোর্নমাউথের এক সচ্ছল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবারে জন্ম নেওয়া রনি তরুণ বয়সেই প্রথম কারাগারে যান এবং পরে তার সশ্রম কারাদণ্ড হয়। ‘তারপর থেকে তিনি এক অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও নাটকীয় জীবনযাপন করতে শুরু করেন,’ লে কারে বলেন। নিজেকে বারবার নতুন রূপে হাজির করার এক অদ্ভুত নেশা ছিল রনির। তিনি একাধারে রেসের ঘোড়ার মালিক বনে যান, রাজপরিবারের তরুণ সদস্যদের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করেন এবং ছিটকে পড়েন বিলাসবহুল বেন্টলি গাড়ির রাজকীয় আভিজাত্যে।

লে কারে লেখক হিসাবে জীবন শুরু করে ক্ষণিকের জন্য গোয়েন্দা হয়েছিলেন, নাকি গোয়েন্দা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে উপন্যাসের পাতা সাজিয়েছিলেন-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি একবার বলেছিলেন : ‘আমি নিজেও তা ঠিক জানি না... তবে আমার মনে হয় এ দুইয়ের পেছনেই লুকিয়ে আছে আমার বাবার এক বিশাল ছায়া এবং শৈশবে আমাদের যাপিত সেই দ্বৈত ও ছদ্মবেশী জীবন।’

‘আমরা স্কুলে যেতাম। কিন্তু আমাদের ভেতরের সেই বিশৃঙ্খল ও ঝোড়ো পারিবারিক জীবনের কথা কাউকে বলতাম না। এক অর্থে, আমরা শৈশব থেকেই স্পাই বা গুপ্তচর ছিলাম।’ বাবার পরিবারের সবাই আঞ্চলিক টানে কথা বলতেন, সেখানে প্রাইভেট স্কুলে পা রাখামাত্রই ডেভিড তার সহপাঠীদের মতো মার্জিত উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি রপ্ত করে নেন। ‘আমি তখন থেকেই উচ্চবিত্তদের পারস্পরিক যোগাযোগের সেই ভাষা শিখতে শুরু করি। আমি কখনো নিজেকে সেই সমাজের অংশ মনে করতে পারিনি, তবে আমার ধারণা সৃজনশীল মানুষদের বেশির ভাগই জীবনের কোনো স্তরেই পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিতে পারেন না।’

লে কারের এ দ্বৈত জীবনযাপনের অদ্ভুত ক্ষমতাটি মূলত এসেছিল তার বাবার ‘যশ ও সম্মানের ছদ্মাবরণে অপরাধমূলক জীবন বেছে নেওয়ার’ চরম ক্ষমতা থেকে। তিনি মনে করতেন : ‘আমার বাবার জীবনটাই ছিল এক কল্পনার জগৎ। তিনি ছিলেন এক অনন্যসাধারণ প্রবঞ্চক, যিনি শূন্যে মেঘের প্রাসাদ তৈরি করতে পারতেন, অনায়াসে নতুন নতুন চরিত্রের জন্ম দিতে পারতেন। যেহেতু এ অসাধারণ শিল্পটি আমার চোখের সামনেই জীবন্ত উদাহরণ হিসাবে ছিল, তাই আমার পক্ষে কথাসাহিত্যের জগতে পা রাখাটা ছিল স্বাভাবিক এক বহিঃপ্রকাশ।’

তার শৈশবের সেই বৈরী পরিবেশই নির্ধারণ করে দিয়েছিল তার উপন্যাসের গতিপ্রকৃতি। তার গল্পগুলো পূর্ণ থাকত এমন সব চরিত্রে, যারা প্রতিনিয়ত নিজেদের নৈতিকতার সঙ্গে লড়াই করছে, যেখানে কাউকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। ‘আমার কাছে বাড়ি বা পরিবার কোনো নিরাপদ আশ্রয় ছিল না, বরং সেটি ছিল এক অত্যন্ত বিপজ্জনক স্থান-যেমনটি ছিল জর্জ স্মাইলির জন্য কিংবা আমার উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রদের জন্য,’ তিনি বিবিসিকে বলেছিলেন। ‘বাড়ি হলো এমন এক জায়গা যেখানে চাইলেই আপনাকে খুঁজে পাওয়া যায়, যেখানে যে কোনো মুহূর্তে আপনাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ আসতে পারে, কিংবা যেখানে পাওনাদার বা বেলিফরা এসে আপনার সাধের খেলনা আর জামাকাপড় ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে ফেলে দিতে পারে।’ এই সার্বক্ষণিক মানসিক টানাপোড়েন ও আশঙ্কার কারণে লে কারে কখনো মনে নিরাপত্তার স্বাদ পাননি। কিন্তু এ নিরাপত্তাহীনতাকেই তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন : ‘অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতাই হলো লেখার জগতের সবচেয়ে চমৎকার ও জাদুকরী স্ফুলিঙ্গ।’

লে কারে গোয়েন্দা সাহিত্যের এক সম্পূর্ণ নিজস্ব ঘরানার জন্ম দিয়েছিলেন। তার চরিত্ররা অন্ধভাবে এজেন্সির আদেশ মানত না, বরং তারা নিজেদের অস্তিত্ব এবং এজেন্সির অনৈতিক কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলত। ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্টি করা জেমস বন্ডের গ্ল্যামারাস জগৎ থেকে এটি ছিল আলোকবর্ষ দূরে। ১৯৬৬ সালের এক সাক্ষাৎকারে লে কারে বলেছিলেন, ‘আমি ঠিক নিশ্চিত নই যে, বন্ডকে আসলেই একজন গোয়েন্দা বলা যায় কিনা। সে মূলত এক ধরনের আন্তর্জাতিক গ্যাংস্টার... যে রাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অবাস্তব জগতে বাস করে।’ এর বিপরীতে, লে কারের উপন্যাসগুলো ঠান্ডা লড়াই বা কোল্ড ওয়ারের সেই জটিল রাজনৈতিক আদর্শিক যুদ্ধকে ফুটিয়ে তুলেছিল, যেখানে গোয়েন্দা তৎপরতার চেয়েও রাজনীতি এবং মানবিক টানাপোড়েন অনেক বড় ক্যানভাসজুড়ে দৃশ্যমান হতো।

২০০৮ সালে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, ‘যে কোনো গোপনীয়তার ভেতরেই আমি এক ধরনের অদ্ভুত আশ্রয় খুঁজে পেতাম।’ শৈশবের সেই দুঃসহ দিনগুলো লে কারের মনে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল, তা তিনি কখনোই অস্বীকার করেননি। কিন্তু সেইসঙ্গে তিনি এটিও মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন যে, শৈশবের সেই রুক্ষ ও বৈরী পরিবেশই তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল। বাবার দেওয়া প্রতিনিয়ত তীব্র হতাশা ও ট্রমার মধ্যদিয়ে গিয়েও, ডেভিড কর্নওয়েল তার জীবনের সবটুকু সাফল্যের কৃতিত্ব শেষ পর্যন্ত রনিকেই উৎসর্গ করেছিলেন।

‘আমার বাবার সেই বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় জীবনের চরম উচ্ছ্বাস, আর তার পরপরই তার দেউলিয়া হয়ে যাওয়া কিংবা রাজকীয় কারাবাসের সেই অন্ধকার অধ্যায়-এ দুই বিপরীত মেরুর অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে যে বিপুল প্রসারতা ও বৈচিত্র্য দিয়েছিল, তা ছিল অমূল্য। এ বিচিত্র অভিজ্ঞতাই আমার লেখার ধরনকে গড়ে তুলেছে এবং আমার ভেতরে এমন এক স্থায়ী মানসিক টানাপোড়েনের জন্ম দিয়েছে যা থেকে আমি কখনোই মুক্ত হতে চাইনি। আমি এ উত্তরাধিকারের জন্য রনির কাছে চিরঋণী। আমি প্রায়শই মহান লেখক গ্রাহাম গ্রিনের সেই বিখ্যাত উক্তিটি মনে করি-‘একজন লেখকের একমাত্র প্রকৃত সঞ্চয় বা মূলধন হলো তার শৈশব’-আর সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে বলতে হয়, শৈশবেই আমি একজন কোটিপতি ছিলাম।’

সূত্র : বিবিসি অনলাইন। মূল : ফিওনা ম্যাকডোনাল্ড। ভাবানুবাদ : মেজবাহ উদ্দিন