নাটোরের গুরুদাসপুরে জনরোষের শিকার দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের পর এবার ২০ জনের নামসহ ২৫০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার গভীর রাতে গুরুদাসপুর থানায় মামলাটি করেন উপপরিদর্শক এমদাদুল হক। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরো গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উপপরিদর্শক আবুল বাসার (৪৫) ও পুলিশ সদস্য রাকিবুল ইসলামের (৩৬) ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশের ওপর আক্রমণের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, মঙ্গলবার ঘটনার রাতেই জনরোষে পড়া উপপরিদর্শক আবুল বাসার (৪৫) ও পুলিশ সদস্য রাকিব হোসেনকে (৩৬) গুরুদাসপুর থানা থেকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সহকারী পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) নূর মোহাম্মদ আলীকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ ঘটনায় গতকাল গ্রামের ২৭০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের শিশু লাম (৯) ও ফারহান (৯) নন্দকুঁজা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মারা যায়। সন্ধ্যার পর স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

উপপরিদর্শক আবুল বাসার ও পুলিশ সদস্য রাকিব হোসেন জানাজাস্থলে গিয়ে দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির নামে কাফনের কাপড় খুলে লাশ অনাবৃত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে উপস্থিত মুসল্লিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে দুই পুলিশ সদস্য জনরোষের মুখে পড়েন।

কিছু মানুষ পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে কিলঘুষি মারেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে দুই পুলিশ সদস্য ওয়াপদা বাজারের একটি লেপ-তোশকের দোকানে আশ্রয় নেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর তাঁদের পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে ২৭০ জনকে আসামি করে পুলিশের মামলা দায়েরের ঘটনায় ওয়াপদা বাজার, শ্যামপুর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রামগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

তাঁরা মামলাটিকে হয়রানিমূলক উল্লেখ করে বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনের নামে দুই পুলিশ সদস্য মৃতদেহের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করায় জানাজায় অংশ নেওয়া হাজারখানেক মানুষ ক্ষুব্ধ ছিলেন। ঘটনার সময় বিদ্যুৎও ছিল না। কারা কীভাবে পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। সঠিক তদন্ত ছাড়া গণহারে গ্রামবাসীকে আসামি করা উদ্বেগজনক।

তবে ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, অন্যায়ভাবে কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হবে।