রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসির প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম)-২০২৫ দ্রুত অনুমোদনের দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ।

সংগঠনটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অর্গানোগ্রাম অনুমোদন না হওয়ায় নিয়মিত পদোন্নতি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে হাজারো কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৯ সালে জনতা ব্যাংকের এক হাজার ৯২৬ কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি ভিত্তিতে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর সুপারনিউমারারি পদোন্নতি না দেওয়ার নির্দেশনা জারি হলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে আরও সাত হাজার ২১৮ কর্মকর্তা একই ধরনের পদোন্নতি পেয়েছেন। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন গ্রেডের ৫৭৯ কর্মকর্তা রয়েছেন।

সংগঠনটি জানায়, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও সংশোধনের নির্দেশনা দেয়। পরে ১৪ অক্টোবর সুপারনিউমারারি পদোন্নতির বিষয়টি সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কর্মকর্তাদের দাবি, জনতা ব্যাংকের প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হলেও এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম এরই মধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া জনতা ব্যাংক ছাড়া অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪-কে কাট-অফ তারিখ ধরে নিয়মিত পদোন্নতি সম্পন্ন করেছে। ফলে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের শেষে পদোন্নতির জন্য যোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ৮০২ জন, যা ২০২৫ সালের শেষে বেড়ে সাত হাজার ২৬৮ জনে পৌঁছেছে। কিন্তু নতুন পদ সৃষ্টি না হওয়ায় পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং প্রশাসনিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

সংগঠনের ভাষ্য, প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলে ব্যাংকের জনবল ১৮ হাজার ৩৭৩ জন থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৮১৭ জনে উন্নীত হবে। এতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আসবে, নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত হবে এবং গ্রাহকসেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, এসএমই ও সিএমএসএমই কার্যক্রম, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে গতি আসবে।

আরও জানানো হয়, নতুন অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নে তিন বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।

সংবাদ সম্মেলন থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ জনতা ব্যাংকের প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম)-২০২৫ দ্রুত অনুমোদন এবং দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জট নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

ইএআর/একিউএফ