বিশ্বকাপের নকআউটের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই ব্রাজিলকে হারানোর হুংকার দিয়ে যাচ্ছে জাপান। আট মাস আগে টোকিওতে প্রীতি ম্যাচে সেলেসাওদের ৩-২ গোলে হারানোর সুখস্মৃতিতে বুঁদ হয়ে থাকা ব্ল– সামুরাইরা সম্ভবত বিশ্বকাপে দুদেশের ইতিহাস ভুলে গেছে। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে জাপানকে সেই ইতিহাস মনে করিয়ে দিতে চায় ব্রাজিল। প্রতিশোধের মিশনে সফল হয়ে কার্লো আনচেলত্তির দল বুঝিয়ে দিতে চায়, আট মাস আগের সেই হার ছিল নিছক অঘটন।

দুদলের ১৪ বারের দেখায় ব্রাজিলের ১১ জয়ের বিপরীতে জাপানের জয় ওই একটি। বাকি দুই ম্যাচ ড্র হয়েছে। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে তাদের একমাত্র সাক্ষাতে জাপানকে ৪-১ গোলে চূর্ণ করেছিল লাতিন পরাশক্তিরা। এবার আসা যাক আসল ইতিহাসে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ছয়ে থাকা ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছে রেকর্ড পাঁচবার। যেখানে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখনো কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি র‌্যাংকিংয়ের ১৮ নম্বর দল জাপান। এবারের আসরে তারা নকআউটে উঠেছে গ্রুপ রানার্সআপ হিসাবে। ব্রাজিল সেখানে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। মরক্কোর সঙ্গে নিষ্প্রভ ড্রয়ের পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে স্বরূপে ফেরার বার্তা দিয়েছে ব্রাজিল। সবশেষ ম্যাচে চোট কাটিয়ে প্রায় তিন বছর পর হলুদ জার্সিতে নেইমারের প্রত্যাবর্তন জাপানের জন্য নয় নম্বর বিপৎসংকেত!

জাপানের বিপক্ষে বরাবরই নির্মম ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এশিয়ার দেশটির বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচে নয় গোলের পাশাপাশি তিনটি অ্যাস্টি করেছেন নেইমার। আছে এক ম্যাচে চার গোলের কীর্তিও। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষদিকে বদলি হিসাবে নামা নেইমারকে আজও বদলি হিসাবে খেলাতে পারেন কোচ আনচেলত্তি।

গ্রুপপর্বে ব্রাজিলের সাত গোলের চারটি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের, তিনটি মাতেউস কুনিয়ার। তবে নেইমারকে নিয়েই বেশি চিন্তিত জাপানের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইউতো নাগাতোমো, ‘নেইমার বিশ্বমানের একজন খেলোয়াড়। তাকে নিয়ে আমাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। ব্রাজিল সব সময়ই শক্তিশালী দল। তবে আমাদের দলও ভালো। আমরা বিশ্বাস করি, নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে ব্রাজিলকে হারানো সম্ভব।’

নকআউট ম্যাচে একবার পা হড়কালেই সব শেষ। পরিষ্কার ফেভারিট হলেও তাই ‘ডার্ক হর্স’ জাপানকে নিয়ে সতর্ক ব্রাজিলের তরুণ উইঙ্গার রায়ান, ‘আমরা জানি, জাপান খুবই শক্তিশালী দল। তাদের হারানোর জন্য নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত আমরা। আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মাঠে যারাই খেলুক না কেন, আমরা একই মানের দল থাকি। আমি যদি উঠে যাই, এনদ্রিক কিংবা নেইমার নামবেন। ম্যাচের নির্দিষ্ট মুহূর্ত অনুযায়ী কোচ সেরা খেলোয়াড় বেছে নিচ্ছেন এবং সেটা ভালোভাবেই কাজ করছে।’