আগামী প্রজন্মকে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রকৃতিপাঠ পাঠশালার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘বন্যপ্রাণের গল্পকথা’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী ন্যাচার ক্যাম্প। ২৪ জুলাই রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে ৫-১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবকেরাও উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনের শুরুতে বিভিন্ন আনন্দদায়ক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হয়। এরপর বোটানিক্যাল গার্ডেনের সবুজ প্রকৃতির মাঝে ঘুরে ঘুরে পাখি ও বন্যপ্রাণীর সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের নোটপ্যাডে পাখির ছবি আঁকে, নাম ও বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ করে। পাশাপাশি সরাসরি দেখে দেখে ছবি আঁকার মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও দারুণ আনন্দে মেতে ওঠে তারা।

আয়োজকেরা জানান, বর্তমানে পাঠ্যবইয়ের বাইরে শিশুদের সময়ের বড় একটি অংশ কাটে মোবাইল, ট্যাবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের পর্দায়। তাদের এই স্ক্রিননির্ভরতা থেকে দূরে এনে প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রকৃতিকে ভালোবাসতে ও রক্ষা করতে হলে ছোটবেলা থেকেই তা চিনতে হবে। সেই লক্ষ্যেই চার দেওয়ালের বাইরে এই উন্মুক্ত পাঠশালার আয়োজন।

আরও পড়ুন

প্রকৃতিপাঠ পাঠশালার যাত্রা শুরু, রমনা পার্কে শিশুদের গল্পকথা

ক্যাম্পে শিশুদের বন্যপ্রাণীবিষয়ক পাঠ দিতে মেন্টর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট, পাখিবিদ এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিন ঘণ্টাব্যাপী ক্যাম্প শেষে তিনি বলেন, ‌‘এখানে এসে শিশুদের সাথে দারুণ সময় কেটেছে। তারা বেশ আনন্দের সাথে খেলার ছলে পাখি ও বন্যপ্রাণীর সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছে। আশা করি ‘প্রকৃতিপাঠ পাঠশালা’ তাদের এই চমৎকার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চালু রাখবে।’

এ ছাড়া প্রকৃতিবিষয়ক পাঠ দিতে মেন্টর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের সাবেক প্রধান বোটানিস্ট শামসুল হক, উদ্ভিদবিদ ও স্থপতি তুঘলক আজাদ মিঠু এবং শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষক খাদিজা বাপ্পী। গল্প, পর্যবেক্ষণ ও হাতেকলমে শেখার নানা কাজের মাধ্যমে তারা শিশুদের সামনে বন্যপ্রাণী, গাছপালা, ফুল ও পাতার বিভিন্ন দিক সহজভাবে তুলে ধরেন।

অভিভাবকেরা এমন আয়োজন নিয়মিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিশুদের মানসিক বিকাশ, পরিবেশ সচেতনতা এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন

পিছিয়ে পড়া শিশুদের নিয়ে পরিবেশ অলিম্পিয়াড

প্রকৃতিপাঠ পাঠশালার উদ্যোক্তা ও এভারেস্টজয়ী ইকরামুল হাসান শাকিল বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা প্রকৃতির প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে উঠুক। প্রকৃতির সঙ্গে সখ্যই হোক তাদের মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার প্রথম পাঠ। গতানুগতিক বইয়ের শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে আনন্দ, সৃজনশীলতা, অভিজ্ঞতা আর অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে বিকশিত হোক তাদের মেধা ও মনন। সেই সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

ক্যাম্পে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকৃতিপাঠ পাঠশালার সহ-উদ্যোক্তা ও পর্বতারোহী সাদিয়া সুলতানা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মাহফুজুল আলম মাসুম, আনন্দ বিনোদনের সম্পাদক এসএএম সুমন, নগর-পরিকল্পনাবিদ বিবি খাদিজাসহ অনেকে।

প্রকৃতিপাঠ পাঠশালা মূলত ব্রেথ অব ন্যাচার (বন) ফাউন্ডেশনের একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষামূলক কার্যক্রম। দিনব্যাপী আনন্দময় অংশগ্রহণ শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ক্যাম্পের সমাপ্তি ঘটে।

এসইউ