জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে গ্রামবাসী ও বিজিবির বাধায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শূন্যরেখায় নিয়ে কড়া পাহারায় রাখেন। তবে রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে তাদেরকে আর শূন্যরেখায় দেখা যায়নি।
সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ফ্লাডলাইট বন্ধ করে পাঁচজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করে। এদের মধ্যে দুজন দেশের ভেতরে ঢুকে দ্রুত সটকে পড়েন। তবে এক বৃদ্ধ ও দুই নারীকে সীমান্তসংলগ্ন সড়কে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শূন্যরেখায় নিয়ে কড়া পাহারায় রাখেন।
আটককৃতদের জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে জানা গেছে, ওই বৃদ্ধের নাম শেখ হাফিজুর রহমান এবং তার স্ত্রীর নাম নাছিমা বেগম। সঙ্গে থাকা অপর নারী তাদেরই নিকটাত্মীয় শিউলি বেগম। তাদের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে।
জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য কয়েক মাস আগে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যান তারা। সেখানে ভিসাসংক্রান্ত জটিলতায় পড়লে তাদের ভারতের কারাগারে বন্দি থাকতে হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) ঘটনাটি গণমাধ্যমে আসার পর নড়াইল থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে জয়পুরহাট সীমান্তে ছুটে আসেন তাদের ছেলে সোহাগ শেখ। তিনি নড়াইল পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
আরও পড়ুন
জয়পুরহাট সীমান্তে ৩ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পণ্ড
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ওই তিনজন শূন্যরেখাতেই ছিলেন। রাতে বিজিবি সদস্যরা গ্রামবাসীদের ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করেন। কিন্তু রোববার ভোরে শূন্যরেখায় আর কাউকে দেখা যায়নি। গ্রামবাসীর ধারণা, রাতেই ওই তিনজনকে স্বজনদের মাধ্যমে দেশের ভেতরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের এই ধারণার সঙ্গে একমত নন ছেলে সোহাগ শেখ। মুঠোফোনে তিনি বলেন, পাঁচ মাস আগে তার মা-বাবা চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। প্রায় এক মাস ধরে তাদের কোনো খোঁজ ছিল না।
সোহাগ শেখ বলেন, শনিবার সকালে আটকের ভিডিও দেখে আমি রাতেই সীমান্তে ছুটে যাই। কিন্তু আমাকে আমার মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আসতে দেওয়া হয়নি। এখন তাদের দেশে ফেরাতে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।
এদিকে, বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ভুটিয়াপাড়া বিওপির কমান্ডার শামসুজ্জামান বলেন, শনিবার রাতে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ওই তিনজনকে বিএসএফই আবারও সরিয়ে নিয়েছে।
মাহফুজ রহমান/এনএইচআর/এএসএম








