সদ্য অনুষ্ঠিত শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়ে শিবা সানু জানিয়েছেন নির্বাচনে জয়ের আনন্দের চেয়েও এখন তার কাছে বড় দায়িত্ব শিল্পীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা।

গলায় পরানো ফুলের মালার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমার গলায় যে ফুলের মালাটি পরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমি মনে করি এটি এখনও আমার প্রাপ্য নয়। শিল্পীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলেই এই সম্মান গ্রহণের অধিকার অর্জন করব। তখন যদি কোনো শিল্পী আমাকে একটি ফুলও দেন, সেটিই এই মালার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান হবে। নির্বাচনে জয়লাভ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আমরা যে লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে প্যানেল গঠন করেছি, তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই সবার সামনে এই সম্মান গ্রহণ করব।” 

জয়ী ও পরাজিত—উভয় পক্ষের প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের অভিনন্দন। আর যারা জয়ী হতে পারেননি, তাদেরও ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য। সবাই মিলে শিল্পী সমিতিকে এগিয়ে নিতে হবে।” ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শিবা সানু বলেন,“শিল্পীরা আমার প্রতি যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা কীভাবে রাখব—এটাই এখন আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে। নির্বাচন জেতার আনন্দ যেমন আছে, তেমনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বড় একটি দায়িত্বও কাঁধে এসে পড়েছে। শিল্পীদের জন্য কাজ করাই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সিনিয়র শিল্পী ও ফাইট ডিরেক্টর আরমান সাহেব আগে কখনও নির্বাচনে পরাজিত হননি। আমার বিপক্ষে এই প্রথম তিনি হেরেছেন। এটি অবশ্যই বড় অর্জন, তবে প্রকৃত সাফল্য হবে নির্বাচনের পর কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করতে পারলে। আমি গর্বিত, কারণ ২১ সদস্যের পুরো প্যানেল অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। এই বিজয়ে সবার অবদান রয়েছে।”

আগামী দিনে শিল্পী সমিতির সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নবনির্বাচিত সভাপতি। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৬০০ সদস্যকে নিয়ে একটি কার্যকর ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিবা সানু বলেন, “এতদিন কোনো শিল্পী অসুস্থ হলে, কারও জন্মদিন বা মৃত্যুবার্ষিকী থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে জানার কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। আমরা একটি ওয়েবসাইট চালু করব, পাশাপাশি থাকবে ইউটিউব চ্যানেল। সেখানে নিয়মিত সব তথ্য ও আপডেট প্রকাশ করা হবে। কোনো শিল্পী সমস্যায় পড়লে যেন দ্রুত জানাতে পারেন এবং অন্যরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন—সেই ব্যবস্থাও থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসে শুধু চা-কফি খাওয়া বা সাক্ষাৎকার দেওয়া আমার দায়িত্ব নয়। প্রতি মাসে অন্তত একদিন ছুটির দিনে সদস্যদের নিয়ে সভা করব। সেখানে সবাই নিজেদের সমস্যার কথা বলবেন, মতামত দেবেন। আলোচনার মাধ্যমেই আমরা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে চাই।”