যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ সংঘাতের জেরে সপ্তাহের শুরুর দিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। রাতারাতি এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের দিনের ৯ দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা। তেলের দামে এ ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত আছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা নাগাদ অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছায়, যা ১৫ জুনের পর সর্বোচ্চ। গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরের পর তেলের দাম সংঘাত-পূর্ববর্তী পর্যায়ে নেমে এসেছিল। তবে বর্তমানে দাম আবার বাড়ছে। এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর আগের দামের তুলনায় অপরিশোধিত তেলের দাম ১৯ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড টানা তৃতীয় দিন সোমবার ইরানে হামলা চালায়। পালটা হামলা চালায় ইরানও। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ওই প্রণালিতে দুটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে; পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র পালটা পদক্ষেপ হিসাবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিয়ে সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন-ইরানের বন্দরগুলোয় পুনরায় অবরোধ আরোপ করা হবে। তিনি ঘোষণা দেন, গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের ‘অভিভাবক’ হিসাবে সেখানে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে তিনি ট্রানজিট ফি বা মাশুল আদায় শুরু করবেন।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পার্টা কমোডিটিসের জ্যেষ্ঠ তেলবাজার বিশ্লেষক জুন গোহ আলজাজিরাকে বলেন, কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। উভয় পক্ষের বক্তব্যে নমনীয়তা না আসা পর্যন্ত তেলের দামে যে ঊর্ধ্বগতি চলছে, তা থামার সম্ভাবনা কম। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আশায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়লেও বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন করে হামলার হুমকির মুখে তা এখন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে ৫৭টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও কম। গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানের ওপর প্রাথমিক হামলা চালায়, তার আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। তেলবাজারবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কমোডিটি কনটেক্সটের প্রতিষ্ঠাতা ররি জনস্টন আলজাজিরাকে বলেন, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে; পরিস্থিতি আবার সেই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগের অবস্থায় বা তারও নিচে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, আগে আমাদের হাতে পর্যাপ্ত মজুত ছিল, যা ব্যবহার করে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার তীব্র প্রভাব কিছুটা সামাল দিতে পেরেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, সেই মজুতের বড় অংশই এখন নিঃশেষ হয়ে গেছে। ফলে মার্চ ও এপ্রিলের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলে অনেক বেশি ঝুঁকিতে পড়ব।






