খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নে জীবিত এক ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে তাঁর বয়স্ক ভাতার কার্ড বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর বিক্ষোভের পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিবকে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করছে জেলা প্রশাসন।
ভুক্তভোগীর নাম রুহুল আমিন (৭১)। তিনি উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। রুহুল আমিন বলেন, কয়েক বছর ধরে নিয়মিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারি বয়স্ক ভাতার টাকা পেয়ে আসছিলেন তিনি। তবে ৯ মাস ধরে ভাতা পাচ্ছেন না। কারণ জানতে তিনি সম্প্রতি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। তখন কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া একটি প্রত্যয়নপত্রে তাঁকে মৃত উল্লেখ করা হয়েছে। এ জন্য তাঁর বয়স্ক ভাতার কার্ড স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।
রুহুল আমিন বলেন, ‘২০২৪ সালে আমার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আমি ভাতা পাচ্ছি না ৯ মাস ধরে। আমি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।’
সম্প্রতি ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। গত ২৮ জুন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন তাঁরা। জানতে চাইলে এলাকার বাসিন্দা এইচ এম হেলাল উদ্দিন বলেন, শুধু বয়স্ক ভাতা নয়, তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। জীবিত একজন মানুষকে মৃত দেখিয়ে তাঁর বয়স্ক ভাতা বাতিল করার মতো ঘটনায় জড়িত সবার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রত্যয়নপত্রটিতে তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ওসমান আলী ও চার ইউপি সদস্য মো. আবদুল মজিদ, জমিলা বেগম, মো. বেলাল হোসেন ও মর্জিনা বেগমের স্বাক্ষর রয়েছে। তাঁদের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভের পর ইউপির সচিব মো. ওসমান আলীকে মানিকছড়ি উপজেলার বাতনাতলী ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনবার মৌখিকভাবে রুহুল আমিনকে ডাকা হয়েছিল। তিনি উপস্থিত হননি। পরে গ্রাম পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁর মৃত্যুর সনদ দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. আবদুল মজিদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। সমাজসেবা কার্যালয় তাঁদের অজান্তেই বয়স্ক ভাতার কার্ড বাতিল করেছে। তিনি আরও বলেন, এলাকায় তাঁকে বেশির ভাগ মানুষ আমিন মিয়া নামে চেনেন, রুহুল আমিন নামে কম পরিচিত। এ কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাশেদ বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তাধীন বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ভুক্তভোগীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








