শেষ বাঁশি বাজার পর প্রায় ৬৯ হাজার দর্শকে ঠাসা হিউস্টনের গ্যালারিতে রোনালদো, কাকা, বেবেতোরা যখন হাসছিলেন, মাঠে তখন মুখ ঢেকে কাঁদছেন জাপানের ফুটবলাররা। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে কাঁপিয়ে দিয়েও শেষ বত্রিশে থেমে গেল ব্লু সামুরাইদের বিশ্বকাপ যাত্রা। সোমবার রাতে ১০১ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে ব্রাজিল। এবার তারা মুখোমুখি হবে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের। জাপান-বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপে এশিয়ার দলগুলোর বিপক্ষে শতভাগ জয়ের রেকর্ড অক্ষত রাখল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গত অক্টোবরে প্রীতি ম্যাচে জাপানের কাছে হারের প্রতিশোধও নিল কার্লো আনচেলত্তির দল। আগের ম্যাচে চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারকে কাল বদলি হিসাবেও নামানো হয়নি।
২৯ মিনিটে মিডফিল্ডার কাইশু সানোর দুর্দান্ত এক গোলে হলুদকে বিষাদের রং বানিয়ে বিরতিতে গিয়েছিল জাপান। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুম ভাঙে ব্রাজিলের। ৫৪ মিনিটে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরা সেলেসাওরা যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেল্লির গোলে পেয়ে যায় শেষ ষোলোর টিকিট। এর আগে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটে বল পজেশনে একতরফা এগিয়ে থাকলেও গোলের কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ব্রাজিল। ১৪ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার দূরপাল্লার জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন জাপানের গোলকিপার জিওন সুজুকি। এরপর বুনো গেমারেসের ক্রস পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। মিনিটদুয়েক পর বক্সের ঠিক বাইরে জুনিয়া ইতোকে পেছন থেকে ট্যাকল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিলের কাসেমিরো। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসা জাপান ২৯ মিনিটে ব্রাজিলকে স্তম্ভিত করে এগিয়ে যায়। মাঝমাঠে বলের দখল হারিয়েছিলেন দানিলো। সেখান থেকে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে যাওয়ার পথে দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে নাচিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির দুর্দান্ত এক শটে জাল খুঁজে নেন কাইশু সানো। জাপানি মিডফিল্ডারকে আটকাতে পারেননি কাসেমিরো। অতীতে ধর্ষণের অভিযোগ অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়া সানো নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলেই খলনায়ক থেকে হয়ে গেলেন জাপানের নায়ক। অবশ্য রেফারি সদয় না হলে কুনিয়াকে ফাউল করায় নায়ক হওয়ার আগেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে পারতেন সানো। গোল হজমের পর কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলে ব্রাজিল। প্রথমার্ধে ৬২ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে, ৩৫৮টি পাস খেলে ও গোলের জন্য আটটি শট নিয়েও কাজের কাজ করতে পারেনি সেলেসাওরা।
বিরতির পর বদলে যায় ছবিটা। আক্রমণের ঝড় তোলে ব্রাজিল। ৫২ মিনিটে গিমারেসের হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন জাপানের গোলকিপার সুজুকি। পরের মিনিটেই ব্রাজিলের আরেকটি আক্রমণ গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে জাপানের রক্ষণ। অবশেষে ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েলের ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে জাপানের প্রতিরোধ ভেঙে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো। অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার নিজের আগের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলেন দারুণভাবে। মিনিটদুয়েক পর এগিয়েও যেতে পারত পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট গোলকিপারের হাতে লেগে পোস্টে প্রতিহত হয়। ভিনিসিয়ুস ও রায়ান বারবার জাপানের রক্ষণে ত্রাস ছড়ালেও জয়সূচক গোলের দেখা মিলছিল না। তবে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সুফল যোগ করা সময়ে পায় ব্রাজিল। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গিমারেসের পাস থেকে দারুণ এক শটে জাপানের জাল কাঁপিয়ে গ্যালারিতে হলুদ ঢেউ তোলেন বদলি হিসাবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।








