জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শিলং কিংবা লন্ডনে বসে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি যদি সত্যিই করা হয়, তবে তার প্রমাণ হিসেবে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ ঐতিহাসিক বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এনসিপির গাজীপুর জেলা আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। কালীগঞ্জের অনেক এলাকায় এখনো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই এবং প্রতিদিন দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যখন একজন সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে দাবি করেন যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ এলাকার পথ দিয়েই মাদকের চালান যাতায়াত করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, নিজের এলাকার মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ একজন মন্ত্রী কীভাবে সারা দেশের মাদক নির্মূলে সফল হবেন।

এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অধিকারের বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল। সেই লক্ষ্যেই ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন এবং গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণভোটে অংশ নিয়ে তাদের মতামত জানালেও সেই রায় বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল এহসানসহ এনসিপি ও এর অঙ্গসংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।