মাগুরার মহম্মদপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত আহাদ-সুমন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান উজ্জ্বল আক্তার কাফুরকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টনের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী পুলিশের কাছ থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নেন বলে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ধোয়াইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ভাষ্য ভিন্ন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আসামিরা পালিয়ে যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার বিকেলে ধোয়াইল বাজারের একটি কক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন নেতা-কর্মীকে নিয়ে গোপনে বৈঠক করছিলেন। সেখানে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান উজ্জ্বল আক্তার কাফুর ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ বিকেল ৫টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ কাফুরকে আটক করে। তবে অন্য ব্যক্তিরা পালিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাফুরকে আটক করলে পুলিশের ওপর চড়াও হন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টন। তাঁর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন ঘটনাস্থল থেকে কাফুরকে ছাড়িয়ে নেন। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক রেজা লেনিন, ছাত্রদল নেতা আবু আম্মান ইউসুফ এবং ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মশিউর রহমান ছিলেন। এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টনের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। তবে তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, ‘কয়েকটি মিডিয়াতে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমরা ধোয়াইল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু পুলিশ পৌঁছানোর আগেই খবর পেয়ে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।’