পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক সাংবাদিকের ওপর হামলা করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় পৌর শহরের মাছ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিককে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেছেন স্থানীয়রা। তিনি নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও আজকের পত্রিকার কলাপাড়া প্রতিনিধি।

ঘটনার পরই উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ূন সিকদার, পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো. ফারুক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার নাসির উদ্দিনসহ বিএনপির নেতাকর্মী, সাংবাদিক নেতা, শিক্ষকসহ তার শুভাকাক্সক্ষীরা হাসপাতালে ভিড় জমান।

সাংবাদিক মোয়াজ্জেম বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম ও মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেলালের নেতৃত্বে সাত-আটজন নেতাকর্মী আমার ওপর দুদফা হামলা চালিয়ে মারধর করে। এতে গুরুতর জখম হলে স্থানীয়রা আমাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং পরে ওই রাতেই বরিশালে পাঠানো হয়।’ ২১ জুন শহরের বাদুরতলী এলাকায় তার বোনের বাড়িতে হামলায় ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জেরে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানান তিনি।

উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি গণমাধ্যমের কাছে ফোনে কথা বলতে রাজি হননি। অপর অভিযুক্ত বেলাল মোবাইল ফোনে বলেন, এলএলবি পরীক্ষায় অংশ নিতে সারাদিন তিনি বরিশালে ছিলেন। সন্ধ্যার পর এলাকায় ফিরে এসে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. জাকারিয়া আহমেদ বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন শিকদার বলেন, আহত সাংবাদিককে তিনিসহ দলের অনেক নেতাকর্মী হাসপাতালে দেখতে গেছেন। সাংবাদিকের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ-সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।