রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় অর্থের জোগান দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এখান থেকে কৃষক ও কৃষি খাতের উদ্যোক্তাদের ৯ শতাংশ সুদে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে। গ্রাহকভেদে সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে। এ বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে থাকা অতিরিক্ত তারল্যের অর্থ নিয়ে এ তহবিল গঠন করা হবে। এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তহবিল থেকে যেসব ব্যাংক ঋণ বিতরণের আগ্রহী তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। এর মেয়াদ হবে তিন বছর। তহবিল থেকে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থের জোগান দেওয়া হবে। ব্যাংক সেটি মাঠ পর্যায়ে কৃষক বা কৃষি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে বিতরণ করবে। ঋণের বিপরীতে অন্য কোনো চার্জ বা ফি আরোপ করা যাবে না। কেবলমাত্র রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর কৃষক ও কৃষি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে তহবিল থেকে ঋণ দেওয়া যাবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্যসংযোজন, কর্মসংস্থান বাড়ানো ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। কৃষিভিত্তিক অগ্রাধিকভিত্তিক ৪০টি খাতে এখান থেকে ঋণ দেওয়া যাবে।

তহবিল থেকে কৃষক পর্যায়ে কৃষি উৎপাদনের জন্য ৩০ লাখ টাকা দেওয়া যাবে। তিন মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ দেড় বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহণ, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাতের জন্য গ্রাহক প্রতি সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ খাতের জন্য গ্রাহকপ্রতি সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা এবং কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানি করার জন্য গ্রাহক প্রতি সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা যাবে। এসব খাতের ঋণ পরিশোধের জন্য ৩ থেকে ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যাবে। পরিশোধ করতে হবে ৩ বছরের মধ্যে। ব্যাংক ইচ্ছে করলে ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ সীমা ২০ শতাংশ বাড়াতে পারবে।

মোট তহবিলের মধ্যে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ১৫ শতাংশ, কৃষি পণ্যের বিপণন, সংরক্ষণ, পরিবহণ, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাতে ৩৫ শতাংশ, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ কাতে খাতে ৩৫ শতাংশ এবং কৃষিভিত্তিক পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে পারবে ব্যাংকগুলো।