চাটমোহর এনায়েতুল্লাহ ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার ২০ মাস পর পুনরায় সেই অধ্যক্ষ আবু ইসহাককে পুনর্বহাল করা হয়েছে। তবে ১৭ জুন তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও মাদ্রাসার এতদিনের হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবিউল করিম বাচ্চুর বিরুদ্ধে। এর আগে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের একটি পক্ষ স্থানীয় কাউন্সিলরসহ কিছু বিএনপি নেতাকর্মীর সহায়তায় সিনিয়র আরবি শিক্ষক আবু ইসহাককে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়। সেই সঙ্গে অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল করিম বাচ্চুকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে চেয়ারে বসিয়েছিলেন। ওই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল। ওই সময় ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জাানালেও কোনো ন্যায়বিচার পাননি বলে জানান আবু ইসহাক। জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপির একটি পক্ষ মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন করতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর জন্য কমিটি গঠন করে তারা আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিজি অফিসে যান। কিন্তু সেখান থেকে জানানো হয়, জেনারেল শিক্ষক কোনোভাবেই ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে পারেন না। এটি নিয়মবহির্ভূত। এমপিও তালিকায় এক নাম্বারে থাকা আবু ইসহাককে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে তাকে সঙ্গে করে আনার পর কমিটি অনুমোদন হবে। তখন তারা বাধ্য হয়ে মাদ্রাসার সভাপতি এডিসির (শিক্ষা) মাধ্যমে রেজুলেশন করে আবু ইসহাককে পুনরায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। আবু ইসহাক বলেন, রবিউল করিম বাচ্চু এখন যখন বুঝতে পারছে সে অবৈধ, মাদ্রাসার কমিটি গঠন করতে পারছে না, তখন বাধ্য হয়ে আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত থাকাকালীন সে গত ২০ মাসে মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব ফাইলপত্র আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে না। আমি কাগজপত্র যেটুকু দেখে বুঝেছি তারা চরম আর্থিক অনিয়ম করেছে, যার কোনো হিসাব নেই। কমিটি কর্তৃক কোনো অনুমোদনও নেই। রবিউল করিম বাচ্চু বলেন, ওই সময় রেজুলেশন করে লোকজন আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল। আমি দায়িত্ব পালন করেছি। এর বেশি কিছু না। এতদিন অবৈধভাবে ছিলেন কি না জিজ্ঞেস করলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। চাটমোহর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম বলেন, ঠিক অবৈধ না, ওই সময় মাদ্রাসার কমিটি রেজুলেশন করে তাকে দায়িত্ব দিয়েছিল।








