বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের শক্তির জানান দিল মরক্কো। আজ্জেদিন উনাহির জোড়া গোল এবং বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রাহিমির শেষ মুহূর্তের গোলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে আটলাস লায়ন্সরা। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে দাপুটে এই জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে ২০২২ সালের সেমিফাইনালিস্টরা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার জয়ীদল।

এই হারের মধ্য দিয়ে সহ-আয়োজক কানাডা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল। ৬৮ হাজার ৭৭৭ দর্শকে ঠাসা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হিউস্টন স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ছিল উৎসবের আবহ। গ্যালারির অধিকাংশই ছিল মরক্কোর লাল-সবুজ পতাকায় মোড়া। কানাডার সমর্থকরা সংখ্যায় কম হলেও আশা আর বিশ্বাস নিয়ে গলা মিলিয়েছিলেন প্রিয় দলের জন্য। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল কানাডারই। আন্ডারডগ হয়েও তারা খেলেছে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল। ১০ মিনিটে তানি ওলুওয়াসেই বক্সে ঘুরে দুর্দান্ত শট নিলে মন্ট্রিয়লে জন্ম নেওয়া মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু প্রসারিত পায়ে অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। গোলের সুযোগের চেয়ে প্রথমার্ধে উত্তেজনাই ছিল বেশি। বিরতির ঠিক আগে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ও কানাডার রিচি লারিয়ার মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ইংল্যান্ডের রেফারি মাইকেল অলিভার দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান। পুরো প্রথমার্ধে ছয়টি হলুদ কার্ড বের হয়, যার চারটিই দেখেন মরক্কোর খেলোয়াড়রা। ছোট ছোট ফাউল আর শারীরিক লড়াইয়ে ভরপুর প্রথম ৪৫ মিনিট গোলশূন্যই শেষ হয়।

বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ বদলে যায় মরক্কো। ৫০ মিনিটে আশরাফ হাকিমির নেওয়া নিচু ফ্রি-কিক থেকে ক্লিয়ার হওয়া বল বক্সের বাইরে একেবারে ফাঁকায় পেয়ে প্রথম স্পর্শেই ডান পায়ের দুর্দান্ত নিচু শটে কানাডার জালে বল পাঠিয়ে দেন আজ্জেদিন উনাহি। মুহূর্তেই আনন্দে ফেটে পড়ে মরক্কোর গ্যালারি। গোল হজমের পর সব শক্তি নিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে কানাডা। মরক্কোর সুশৃঙ্খল রক্ষণ এবং দ্রুত পালটা আক্রমণের সামনে তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। ৮২ মিনিটে পালটা আক্রমণ থেকে আবারও ঠিক জায়গায় হাজির হন উনাহি। ডান পায়ের প্রথম স্পর্শেই জালে বল পাঠিয়ে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই মিডফিল্ডার। দুই হাত আকাশের দিকে তুলে তার উদ্যাপনে ফুটে ওঠে একটি জাতির স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস আর আরও একবার ইতিহাস লেখার অদম্য প্রত্যয়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে কানাডা মরিয়া হয়ে সামনে উঠে আসে। কিন্তু সেই ঝুঁকিরই সুযোগ নেয় মরক্কো। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে (৯০+৮) দ্রুতগতির এক কাউন্টার আক্রমণ থেকে বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রাহিমি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তৃতীয় গোলটি করেন। রেফারির শেষ বাঁশির ঠিক আগের সেই গোল হিউস্টনের রাতকে পরিণত করে মরক্কোর বিজয় উৎসবে।

শেষ বাঁশি বাজতেই মরক্কোর জার্সিতে রঙিন হয়ে ওঠে হিউস্টন স্টেডিয়াম। কেউ আনন্দে কেঁদেছেন, কেউ সিজদায় লুটিয়ে পড়েছেন, কেউ জাতীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে নেচেছেন। খেলোয়াড়রা গ্যালারির সামনে গিয়ে সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। কানাডার গ্যালারিতে নেমে আসে গভীর নীরবতা। ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আসা সমর্থকদের অনেকেই চোখের জল লুকাতে পারেননি।