ফেনী জেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মমুখী হচ্ছে যুব সমাজ। ফলে দেশে এমনকি প্রবাসেও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে তারা। নানা সংকটের মধ্যেও ১০টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত এখানে ২৫ হাজার বিদেশ গমনেচ্ছুকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও বেকারমুক্ত যুবসমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে টিটিসি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৬ সালে শহরের অদূরে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুরে ফেনী-মাইজদী সড়কের পাশে ২৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় প্রতিষ্ঠানটি। এখানে ছোট-বড় ৩টি ভবন রয়েছে।

জানা গেছে, কম্পিউটার অপারেশনে ৪০৭ জন, গ্রাফিক্স ডিজাইনে ২৭২, ইলেকট্রিক্যালে ৪২২, মোবাইল ফোন সার্ভিসিংয়ে ২৭২, ড্রাইভিং ১৪৭৭, অটোমোটিভে ২৪, মেচিং শপে ২৪ জনসহ ২৮৯৮ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ২৫ জন প্রশিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫ জন। এর মধ্যে একজন অধ্যক্ষ, দুইজন ইনস্ট্রাক্টর ও দুইজন কম্পিউটার অপারেটর। প্রতিটি ট্রেডের ব্যাচে ৩৬ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তির সুযোগ পান। বিদেশ গমনেচ্ছু হাউস কিপিং ভিসায় বিদেশগামী নারীদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এখানে।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মমুখী হচ্ছে যুব সমাজ

কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার বিদেশগমনেচ্ছুকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবগামীদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া ইলেকট্রিকাল, কম্পিউটার ও গ্রাফিক্স, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, অটোমেকানিক, দেশ-বিদেশের ৩ থেকে ৫ মাস মেয়াদি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণার্থী আবু আহাম্মদ জানান, এখানে হাতে-কলমে সবকিছু শিখিয়ে দেওয়া হয়। তরুণ-তরুণীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে প্রবাসে যেতে পারছেন। এ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বেকারত্ব দূরীকরণ সম্ভব।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মমুখী হচ্ছে যুব সমাজ

প্রশিক্ষণার্থী শাহাদাত হোসেন জানান, বেকার তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে জনশক্তিতে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্র উন্মোচিত হলো।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. জসিম উদ্দিন জানান, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অদক্ষদের দক্ষ করতে কাজ করা হয়। এখান থেকে সনদ নিয়ে কেউ বেকার থাকেন না। এ সনদটি একজন কর্মীকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলে। সনদধারীরা এ সনদ দেখিয়ে দেশ-বিদেশে খুব সহজেই ভালো চাকরি করতে পারেন। চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষক নিয়োগ দিতে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এফএ/এএসএম