ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জুন মাসে অনেক বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিল আসার অভিযোগ ওঠেছে। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও দুই থেকে ছয়গুণ পর্যন্ত বেশি বিল আসায় চরম ভোগান্তি ও আর্থিক চাপে পড়েছেন গ্রাহকরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। স্থানীয় একাধিক গ্রাহক জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও জুন মাসে তাদের বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে। উপজেলার এক গ্রাহকের তথ্যমতে, তার মাসিক গড় বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় ২৪০ ইউনিট। চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি ২০০ ইউনিট, এপ্রিলে ২৮০ ইউনিট এবং মে মাসে ৩৩০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। কিন্তু জুন মাসে তার বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে ৮০০ ইউনিট। ওই গ্রাহক বলেন, আগে তার মাসিক বিদ্যুৎ বিল আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও জুন মাসে বিল এসেছে ১০ হাজার ৬১০ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ পরিশোধযোগ্য বিল দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১১৫ টাকা। আরেক গ্রাহকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে তার বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল ৯৫ ইউনিট এবং মে মাসে ৪০। অথচ জুন মাসে ব্যবহার দেখানো হয়েছে ২১০ ইউনিট। মে মাসে তার বিল ছিল ২৯৩ টাকা, যা জুন মাসে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭২৪ টাকা। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, আগের মতোই লাইট, ফ্যান ও অন্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করলেও কোনো কারণ ছাড়াই তাদের বিল কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তারা বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন। এদিকে অতিরিক্ত বিল নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ জানাচ্ছেন। অনেকেই বিদ্যুৎ বিলের কপি প্রকাশ করে অসংগতির বিষয়টি তুলে ধরছেন। এ বিষয়ে কসবা সদর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, কিছু গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিলসংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে দ্রুত বিল যাচাই, মিটার রিডিং পুনঃপরীক্ষা এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বিদ্যুৎসেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং ও নামমাত্র বিদ্যুৎসেবা, অন্যদিকে আকাশচুম্বী ভুতুড়ে বিল, অবৈধ মিটার ভাড়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। এ নৈরাজ্য বন্ধ এবং হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা মাসের পর মাস গ্রাহকদের বাড়িতে না গিয়ে অফিসে বসেই নিজেদের ইচ্ছেমতো মনগড়া বিল তৈরি করছেন। ফলে নিয়মিত ব্যবহারের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই সরল বিশ্বাসে তা পরিশোধ করছেন, আবার যারা অফিসে গিয়ে বিল সংশোধনের চেষ্টা করছেন, তাদের রূঢ় আচরণের শিকার হতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের শ্রম, অর্থ ও সময় সবই নষ্ট হচ্ছে। এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের এ স্বেচ্ছাচারিতা ও সার্বিক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন রাউজানের সচেতন নাগরিক মোহাম্মদ মনসুরুল হাসান চৌধুরী। আবেদনে অবৈধভাবে মিটার ভাড়া আদায় বন্ধ, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি ও লাইন দ্রুত মেরামত বা প্রতিস্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ আবেদনের অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, রাউজান পৌর প্রশাসক, থানার ওসি এবং চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ-সদস্যের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আলতাফ গহর চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সমিতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। এ পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। এছাড়া এলাকায় কোনো লোডশেডিংও নেই।’