‘সাদা পেলে’ নামে খ্যাত জিকো ১৯৭৮, ১৯৮২ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে খেললেও ট্রফি জিততে পারেননি। ১৯৮২ বিশ্বকাপে ব্রাজিল অন্যতম সেরা দল ছিল। কিন্তু তারা দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়। ব্রাজিলের হয়ে ৭১ ম্যাচে ৪৮ গোল করেছিলেন জিকো। তবে কখনোই কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডি পেরোতে পারেননি।

পর্তুগালের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ইউসেবিও ১৯৬৫ সালে জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর। পর্তুগালের হয়ে খেলেছিলেন মাত্র একটি বিশ্বকাপ, ১৯৬৬ সালে। সেই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা পর্তুগাল সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যায়। এরপর আর কখনো দেশের হয়ে কোনো বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতার সুযোগ পাননি ইউসেবিও।

টোটাল ফুটবলের জনক জোহান ক্রুয়েফ ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি। ক্লাব ফুটবলে আয়াক্স ও বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা। কিন্তু দেশের জার্সিতে সেই সাফল্য ধরা দেয়নি। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে ক্রুয়েফের নেতৃত্বে নেদারল্যান্ডস অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলেছিল। গোটা টুর্নামেন্টে আধিপত্য দেখিয়েও ফাইনালে আয়োজক পশ্চিম জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় ডাচ্দের।

১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত টানা তিনবার ব্যালন ডি’অরজয়ী মিশেল প্লাতিনি। ফ্রান্সের জার্সিতে ৭২ ম্যাচে ৪১ গোল করেছেন। ১৯৮২ ও ১৯৮৬-দুই বিশ্বকাপেই সেমিফাইনালে পৌঁছেছিলেন। দুবারই পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে যান। ১৯৮২ বিশ্বকাপে পেনালটি শুটআউটে হেরে যায় ফ্রান্স। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আবারও পশ্চিম জার্মানির কাছে পরাস্ত হয় ফ্রান্স।

রবার্তো বাজ্জো ইতালির সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। অসাধারণ নৈপুণ্যে তিনি ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছিলেন ইতালিকে। পুরো টুর্নামেন্টে দলের ভরসা হলেও ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তার পেনালটি মিসে ইতালির বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়।

ডেভিড বেকহ্যাম ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬-টানা তিনটি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দিয়েগো সিমিওনকে ফাউল করার পর মাটিতে শুয়ে থাকা অবস্থায় তাকে হালকা লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন বেকহ্যাম। চার বছর পর, ২০০২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পেনালটি থেকে গোল করে জবাব দেন তিনি। তবে অধিনায়ক হিসাবে তিনটি বিশ্বকাপের কোনোটিতেই ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলতে পারেননি।

অলিভার কান জার্মানির সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। দেশের জার্সিতে ৮৬ ম্যাচ খেলেছেন। ২০০২ বিশ্বকাপে ফাইনালের আগপর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছিলেন। তবে ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে দুটি গোল হজম করে জার্মানির শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়।

ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ২০০৬ থেকে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ১১ গোল করেছেন। সেরা সাফল্য ২০০৬ সালে চতুর্থ হওয়া। অধরা স্বপ্নপূরণে ৪১ বছর বয়সে মাঠে নেমেছিলেন এবার। অধরা স্বপ্ন পূরণ হয়নি। স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে পর্তুগালকে। কিংবদন্তিদের মধ্যে হাঙ্গেরির ফেরেঞ্চ পুসকাসেরও সৌভাগ্য হয়নি বিশ্বকাপ জেতার। তালিকায় সবশেষ সংযোজন নেইমার। এবার ভেঙেছে তার স্বপ্নও।