মেহেরপুরের গাংনীতে কাঠবাদাম ভেবে জিয়ালাগাছের ফল খেয়ে ১৪ শিশুর অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলার সহড়াবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে ৯ শিশুকে ওই দিন রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হয়ে তারা আজ সকালে বাড়ি ফিরেছে। অন্যরা গ্রামেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তারা সবাই এখন শঙ্কামুক্ত।

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুরা হলো মোস্তাকিন আলী (১২), কাফি হোসেন (১২), আমেনা খাতুন (৩), হালিমা খাতুন (৯), রক্তিমা খাতুন (১১), রিয়াদ হাসান (১১), ফেরদৌস (১০) ফুয়াদ আলী (১২) ও মোস্তাকিম আহমেদ (৯)। অন্য পাঁচ শিশু গ্রামেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই শিশুরা সড়কের পাশে থাকা জিয়ালাগাছের ফলকে কাঠবাদাম ভেবে খেয়ে ফেলে। পরে সন্ধ্যার পর তাদের পেটব্যথা ও বমি শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরেছে।

অসুস্থ শিশু মো. মোস্তাকিন আহমেদের মা শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘ছেলে বিকেলে খেলাধুলা শেষে বাড়ি ফেরার পর তার প্রচণ্ড পেটব্যথা হয় এবং বমি করতে শুরু করে। গ্রামের চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে খাওয়ালেও অসুস্থতা বাড়তেই থাকে। পরে হাসপাতালে ভর্তি করি।’

বিষয়টি নিশ্চিত করে ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুন বলেন, গতকাল বিকেলে শিশুরা খেলাধুলা শেষে বাবুর আলীর পুকুরের পাশে থাকা জিয়ালাগাছের ফল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা সবাই বর্তমানে সুস্থ।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, গাছটির ইংরেজি নাম ‘বার্বাডোজ নাট’। স্থানীয়ভাবে জিয়ালাগাছ নামে পরিচিত। এর ফল খেয়ে অসুস্থ হওয়া শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করেন অভিভাবকেরা। তারা এখন শঙ্কামুক্ত।