মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনে স্বাগতিক দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার পর নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে ফিফা। এবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে ভিএআর বিতর্ক ফিফাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এ নিয়ে ফুটবলবিশ্ব বিভক্ত।

গত পরশু রাতে আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে মিসর বিদায় নেওয়ার পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) এবং ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সি’র একাধিক সিদ্ধান্তের তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। মিসরের একটি গোল বাতিল এবং শেষদিকে দুটি পেনালটির আবেদন নাকচ হওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে ফাউলের অভিযোগ থাকলেও সেটি ভিএআরে পর্যালোচনা করা হয়নি। আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য জয় ছাপিয়ে বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে ফুটবলবিশ্ব এখন দুই ভাগে বিভক্ত। অনেকে বলছেন, রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে মিসরের জয় ছিনতাই হয়ে গেছে। আরেকাংশের দাবি, রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। মিসরের দাবি, ভুল রেফারিংয়ের কারণেই তাদের জয় হাতছাড়া হয়েছে। ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) খেলার আইন এবং ভিএআর নীতিমালা অনুযায়ী রেফারি ও ভিএআর টিমের সিদ্ধান্তগুলো আইনসম্মত ছিল। আবার কোচ জোসে মরিনিও বলেছেন, আর্জেন্টিার বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ভিএআরের বিপক্ষেও খেলতে হয়। এদিকে মিসর রেফারির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নালিশ জানিয়েছে ফিফাকে।

ম্যাচের ৬২ মিনিটে মোহামেদ সালাহর পাস থেকে মোস্তফা জিকো গোল করে মিসরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছেন বলে মনে হচ্ছিল। ভিএআরের পরামর্শে রেফারি রিপ্লে দেখে গোলটি বাতিল করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, গোল হওয়ার আগে একই আক্রমণপর্বে মিসরের মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের জার্সি টেনে ধরেন এবং তার পায়ের ওপর পা দেন। আইএফএবির ১২ নম্বর আইন (ফাউল ও অসদাচরণ) অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের জার্সি টেনে ধরা এবং পায়ের ওপর পা দেওয়া দুটিই ফাউল। ভিএআরের নীতিমালা অনুযায়ী, গোল হওয়ার আগে আক্রমণকারী দলের কোনো ফাউল, অফসাইড বা হ্যান্ডবল থাকলে সেটি পর্যালোচনা করে গোল বাতিল করা যাবে। বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া মাধ্যম ইএসপিএনের বিশ্লেষণে সাবেক সিলেক্ট গ্রুপ রেফারি অ্যান্ডি ডেভিসও একই মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আত্তিয়ার ফাউলেই মিসর বলের দখল পেয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। রিপ্লে দেখার পর গোল বহাল রাখার কোনো সুযোগ রেফারির ছিল না।’

ম্যাচের শেষদিকে আরও দুটি ঘটনায় মিসর পেনালটির দাবি তোলে। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হামদি ফাতির জার্সি টানলেও ভিএআর মনে করে, সেটি পেনালটি দেওয়ার মতো ছিল না। আইএফএবি’র আইন অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের জার্সি ধরা মানেই পেনালটি নয়। খেলোয়াড়ের স্বাভাবিক চলাচল বা বল খেলার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হলেই পেনালটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরেক ঘটনায় আলভারেজের সঙ্গে সংঘর্ষে মোহামেদ সালাহ মাটিতে পড়ে পেনালটির আবেদন জানান। ভিএআর জানায়, এটি ছিল দুই খেলোয়াড়ের স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ এবং আলভারেজ বৈধভাবেই বলের দখল নিয়েছিলেন। তাই রেফারির সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করেনি ভিএআর।