বৃদ্ধ মায়ের ওষুধ, অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা, নিজের চিকিৎসা ব্যয়-সবকিছু যেন আজ তার কাছে এক অসহনীয় বোঝা। যে শিক্ষক জীবনের চার দশকের বেশি সময় ধরে হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলেছেন, চাকরি জীবনের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে আজ তিনিই অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন পার করছেন। মেডিকেলে অধ্যয়নরত মেয়ের পড়াশোনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যাওয়া ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ।
এমনই হৃদয়বিদারক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে নিজের প্রতি অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের প্রতিবাদ এবং স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বোয়ালমারী পৌর সদরস্থ কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ।
শুক্রবার বোয়ালমারী বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, শিক্ষকদের আন্তঃকোন্দল ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তিনি এখনো কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কলেজের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর উসকানিতে বহিরাগত কিছু শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি জানায়। পরে ২৮ নভেম্বর ২০২৪ কলেজের কতিপয় শিক্ষক-কর্মচারী ও বহিরাগতদের চাপে পরিচালনা পর্ষদ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রচলিত বিধি অনুসরণ না করে বরখাস্তাদেশ দীর্ঘদিন বহাল রাখা হয়েছে এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তা কার্যকর রেখেছেন।
ফরিদ আহমেদ আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি এবং বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়। ফলে নিজের উপার্জনের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ও তিনি ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে পরিবার নিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেন।
তিনি জানান, নিরুপায় হয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালতের আদেশে চাকরি ও বেতন-ভাতার অধিকার ফিরে পান। কিন্তু তার দাবি, কলেজের একটি পক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যের কারণে এখনো তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না।








