আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে ফিরতে মরিয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা। জুলাই গণ-অভ্যূত্থানে সরকার ও দলের পতনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় এ সুযোগ তারা কাজে লাগাতে চায়। এরই অংশ হিসাবে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো কারণে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতারা যদি প্রার্থী হতে না পারে, সেক্ষেত্রে তারা বিকল্প প্রার্থী কারা হবেন, সেটিও এখন থেকে বাছাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই তালিকার বেশিরভাগ সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা কৌশলে নিজ নির্বাচনি এলাকায় গোপনে কাজও করছেন। এছাড়া বিকল্প তালিকায় দলের পদধারীদের বাইরে আওয়ামী ঘরনার এমন কিছু প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে-যারা স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী এবং সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়। আবার গ্রেফতার এড়াতে অনেকেই আত্মগোপনে থেকেও ভোটের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া গ্রেফতার হওয়া বা গ্রেফতার হতে পারেন এমন অনেক নেতা জেলে থেকেও কিভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিতে পারেন, সে প্রস্তুতিও এগিয়ে রাখছেন। এছাড়া দেশের যেসব এলাকায় আগে থেকে দলের ভোট ব্যাংক রয়েছে সেখানে নিশ্চিতভাবে প্রার্থী দাঁড় করানো হবে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন সব তথ্য পাওয়া গেছে।

সারা দেশ থেকে যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আলাপ-আলোচনা শুরুর পর রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামও আলোচনায় আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে দলে বড় কোনো পদ-পদবি নেই এবং গুরুতর অভিযোগ বা মামলাও নেই; অথচ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত-এমন অনেকে প্রকাশ্যে নিজেদেরকে প্রার্থী হিসাবে এলাকায় ঘোষণা দিচ্ছেন। এছাড়া ৫ আগস্টের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিভিন্ন পর্যায়ে আগে জনপ্রতিনিধি ছিলেন আওয়ামী লীগের এমন নেতারাও ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

যুগান্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলেন, তারা যে কোনো মূল্যে নির্বাচনে অংশ নিতে চান। কেউ কেউ ইতিমধ্যে প্রকাশ্যেই মাঠে নেমেছেন। কেউ আবার আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে নিজে ও সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের আগে অনেকে গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সুযোগ থাকলে তারা জেলে থেকেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এমনকি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন না করার নির্দেশ দিলেও তারা তা মানবেন না।