আগুনে ফর্মে কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুই উইংয়ে গতির ঝড় তুলছেন উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডি বার্কোলা। মাঠে ফুল ফোটাচ্ছেন ১০ নম্বর মাইকেল ওলিসে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বিপজ্জনক আক্রমণ ফ্রান্সের, মেনে নিতে কুণ্ঠিত নন কেউই। দুরন্ত ছন্দে দিদিয়ের দেশমের দল। বিপক্ষে যে যারাই আসুক, তাদের সহজেই হারিয়ে দেবে ফ্রান্স-এমনটাই মনে করছেন বোদ্ধারা। এই ফ্রান্সকে আটকাবে কে? ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার গ্যারি নেভিলের মতে, একটা দলেরই শুধু সেই ক্ষমতা রয়েছে। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তারাই পারে ফ্রান্সকে আটকাতে। গ্যারি নেভিল বলেন, ‘এই মুহূর্তে আর্জেন্টিনাই ফ্রান্সকে থামাতে পারে। ওদের মানসিকতা, লড়াই করার ক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং দলগত ঐক্য সবচেয়ে বড় শক্তি। আমার মনে হয়, একমাত্র ওরাই ফ্রান্সের সামনে দাঁড়াতে পারবে। তবে কীভাবে ফ্রান্সকে থামাবে, সেটা বলা কঠিন। ফ্রান্সের হয়ে ম্যাচ শুরু করা চারজন ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে, দেম্বেলে, ওলিসে ও বার্কোলার মোকাবিলা করা বিশ্বকাপের প্রতিটি ডিফেন্ডারের কাছে দুঃস্বপ্ন।’ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচই দাপটের সঙ্গে জিতেছে ফ্রান্স। গ্রুপপর্বে তারা ৩-১ গোলে সেনেগালকে, ৩-০ গোলে ইরাককে এবং ৪-১ গোলে নরওয়েকে হারায়। শেষ ৩২-এ সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। এবার শেষ ১৬-তে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। সেই ম্যাচ জিতলে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো এবং সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্সের। তবে এবারের বিশ্বকাপে রক্ষণে দুর্দান্ত আর্জেন্টিনা। এখন পর্যন্ত কলম্বিয়া ও স্পেন (০) ছাড়া সবচেয়ে কম গোল (১) হজম করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। এছাড়া প্রতি ৯০ মিনিটে ট্যাকলের নিরিখে প্যারাগুয়ের পরেই রয়েছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে আক্রমণে সবার থেকে অনেক এগিয়ে ফ্রান্স। টুর্নামেন্টে সর্বাধিক ১৩টি গোল করেছে তারা। এর মধ্যে অধিনায়ক এমবাপ্পে করেছেন ছয় গোল, দেম্বেলে চার, বার্কোলা দুই এবং দেসিরে দুয়ে একটি। মাইকেল ওলিসে ইতোমধ্যে পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা এই বিশ্বকাপে সর্বাধিক। গত কয়েকটি বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার লড়াই ফুটবলবিশ্বের অন্যতম আকর্ষণ। ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আবার ৩-৩ গোলে রুদ্ধশ্বাস ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জেতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এবারও ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে এ দুই দল।