ফুটবল ‘২৪ ঘণ্টা’র খেলা। ৯০ মিনিট হয় মাঠে, বাকি সময়টা মাথায়। মাঠে সেরাটা দিতে হলে মাঠের বাইরে ঘুম, বিশ্রাম—সবকিছুই চাই ‘পারফেক্ট’। একটু এদিক–সেদিক হলেই হতে পারে বিপদ। ব্যতিক্রম আছে। তবে ব্যতিক্রম তো ব্যতিক্রমই!
মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোতে মাঠে নামার আগে ইংল্যান্ড দলের প্রস্তুতি আবার আপনাকে এই কথাগুলো মনে করিয়ে দেবে। খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও ঘুমে ব্যাঘাত যেন না ঘটে, সে কারণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে দলটি।
বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে ২০ দিনের বেশি। হঠাৎ কেন ইংলিশ ফুটবলারদের ঘুম আর বিশ্রাম নিয়ে এত চিন্তা! মূলত এ ভাবনার কারণ মেক্সিকোর সমর্থকেরা। তারাই নাকি ইচ্ছা করে ইংল্যান্ড ফুটবলারদের ঘুম আর বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
এই ভয়ের কারণ ফিফার কাছে ইকুয়েডর দলের অভিযোগ। এই ইকুয়েডর শেষ ৩২–এ মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ ছিল। বিবিসি জানিয়েছে, মেক্সিকোর কিছু সমর্থক গভীর রাতে ইকুয়েডর দলের হোটেলের বাইরে লাউডস্পিকার, হর্ন ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে জাগিয়ে রেখেছিল।
ইকুয়েডর ছিল মেক্সিকো সিটির ওয়েস্টিন হোটেলে। তবে ইংল্যান্ড দল তাদের হোটেলের নাম গোপন রাখতে চায়। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনোভাবে এই অবস্থান ফাঁস হয়ে যেতে পারে—এমন শঙ্কা যে দলের ভেতরে আছে, তা–ও জানিয়েছে বিবিসি। ইংল্যান্ড মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে নামবে আগামী সোমবার আজতেকায়। ম্যাচের আগে তারা সেখানে দুই রাত কাটাবে।
Torcida mexicana TOCANDO O TERROR na frente do hotel da onde a seleção do Equador tá hospedada!
— memes futebolisticos. - vito (@Mfutebolisticos) June 30, 2026
Que climinha de libertadores na copa do mundo. pic.twitter.com/4BDlQZ0ifU
সে কারণেই ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় ও স্টাফদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাঁরা নিজস্ব ঘুমের সরঞ্জাম, যেমন ইয়ার প্লাগ বা স্লিপ ব্যান্ড নিয়ে যাননি, তাঁদের প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধ বা ‘হোয়াইট নয়েজ’ অডিও মেশিন দেওয়া হবে।
এমনিতে আগের ম্যাচগুলোর ভেন্যুতে ইংল্যান্ড দল পৌঁছাত ম্যাচের আগের রাতে, আর অনুশীলন করত কানসাসে। ফিফার নিয়ম হলো, নকআউট ম্যাচের আগের দিন একটি আংশিক উন্মুক্ত অনুশীলন সেশন করতে হবে। সেটা তারা কানসাসেই করত। এবার আর সেই সুযোগ নেই। কারণ, হ্যারি কেইনের দল এই প্রথম মেক্সিকোতে খেলতে যাচ্ছে।
ফিফা কি আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দেয়—কী বললেন স্কালোনিইংল্যান্ডের সামনে চ্যালেঞ্জ আছে আরও। মেক্সিকো সিটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে প্রায় ২ হাজার ২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। এর মানে সেখানে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে। এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে না নিলে তা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
এত দ্রুত এমন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল, ‘উচ্চতা আমাদের জন্য একটি বড় অসুবিধা হবে; কারণ, আমরা শারীরিকভাবে এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছি না। চার দিনের মধ্যে এটি করা একেবারেই অসম্ভব। আরও অনেক বাধা আসতে পারে, তবে আমরা সেগুলোর জন্য প্রস্তুত।’

মেক্সিকোর অবশ্য এত ভাবনা নেই। বিশ্বকাপে তাদের আগের চারটি ম্যাচই এমন পরিবেশে খেলেছে। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচ ছিল মেক্সিকো সিটির অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামে, আর অন্যটি গুয়াদালাহারায়। গুয়াদালাহারা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ১ হাজার ৫৬৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত।
এ অভিজ্ঞতা যে মেক্সিকোকে বাড়তি সুবিধা দেবে, তা মানছেন টুখেল, ‘আমি যত দূর বুঝি, আমরা এই উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব না। মেক্সিকোর জন্য একটি বিশাল সুবিধা হবে। এর জন্য অনেক সময় লাগে। ম্যাচের মাঝে আমরা মাত্র তিন দিন সময় পাচ্ছি।’
মেসির পেনাল্টি ঠেকানোর স্বপ্ন কি আজ সত্যি হবে ভোজিনিয়ার






