ফুটবলে কেউ গতি দিয়ে জয় করে, কেউ সৌন্দর্য বা প্রতিভা দিয়ে। ইংল্যান্ড-কঙ্গো ম্যাচে আবারও হ্যারি কেইন ঝলক।
ইংল্যান্ডের ২-১ গোলের জয়ের নায়ক অধিনায়ক কেইন। জন্ম ১৯৯৩ সালের ২৮ জুলাই, লন্ডনের ওয়ালথামস্টো এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল তার জীবন। পথটা মসৃণ ছিল না। স্থানীয় পর্যায় থেকে জায়গা করে নেন টটেনহাম একাডেমিতে। পেশাদার ফুটবলে শুরুটাও সহজ হয়নি। ধারে খেলতে হয়েছে বিভিন্ন ক্লাবে। মনে করা হতো, এখানেই থেমে যাবেন। তিনি থামেননি। টটেনহামে ফিরে এসে নিজেকে বদলে ফেলেন। গোল করা শুরু করেন। শুধু গোল নয়, আক্রমণ তৈরি করা, দলকে নেতৃত্ব দেওয়া-সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন একজন পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাইকার। তারপর জাতীয় দল। ১৯৬৬-এর পর ইংল্যান্ডের প্রতিটি প্রজন্ম বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়েছে নতুন আশায়। সেই প্রত্যাশার বড় অংশ এসে পড়ে কেইনের কাঁধে। বিশ্বকাপ ও ইউরোর মঞ্চে তিনি গোল করেছেন, দলকে এগিয়ে নিয়েছেন। সমালোচনাও কম শুনতে হয়নি। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল তার সবচেয়ে সুন্দর উত্তরগুলোর একটি। ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিটে কঙ্গো এগিয়ে যায় ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে। এরপর দীর্ঘ সময় ইংল্যান্ডকে আটকে রাখে কঙ্গোর সংগঠিত রক্ষণ আর গোলকিপার লিওনেল এমপাসি। একের পর এক সেভ করে তিনি বাঁচিয়ে রেখেছিলেন কঙ্গোকে। অনেকের চোখে এমপাসিও ম্যাচসেরার দাবিদার। শেষ ১৫ মিনিটে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন কেইন। ৭৫ মিনিটে হেড থেকে সমতা এবং ৮৬ মিনিটে জয়সূচক গোল। বদলে যায় রাত। ম্যাচসেরার সম্মান যায় হ্যারি কেইনের কাছে। ম্যাচ শেষে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার কণ্ঠে ছিল স্বস্তি। বলেছিলেন, ‘দারুণ লাগছে। অবিশ্বাস্য একটা ম্যাচ! প্রথমেই বলতে হবে, আমরা খুব কঠিন আর সংগঠিত একটি দলের বিপক্ষে খেলেছি। প্রথম কুলিং বিরতির পর আমরা নিজেদের খেলার মান বাড়িয়েছি। তাদের গোলকিপার অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করেছে। আমরা জানতাম চেষ্টা চালিয়ে গেলে মুহূর্ত আসবে।’
কেইনের কথায়, ‘আমাদের দলে সব সময় কেউ না কেউ নায়ক হয়ে ওঠে। এ ধরনের ম্যাচে ধৈর্য ধরে থাকতে হয়। আগের কয়েকটি ম্যাচও প্রায় একইরকম ছিল। চাপ বেশি। আমাদের নিজেদের খেলাটাই খেলতে হয়। আক্রমণের দিক থেকে এটা এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আমাদের সেরা পারফরম্যান্স। আমরা টুর্নামেন্টের এমন জায়গায় আছি, যেখানে শুধু সুন্দর ফুটবল নয়, কঠিন লড়াই করেও ম্যাচ জিততে হয়। আমি ছেলেদের বলেছি ম্যাচটা উপভোগ করতে। অনেক সময় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা জেতার আনন্দটা ঠিকভাবে উদ্যাপন করে না। অন্য সব দেশের মতো আমরাও পরের পর্বে গেছি। এটা উপভোগ করা উচিত। পুরো ৯০ মিনিটে আমাদের সামলানো কঠিন ছিল।’ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে গ্যারি লিনেকারের পর প্রথম ইংল্যান্ড ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করলেন কেইন। ইউরো ২০২০ থেকে বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে তার গোল এখন ১০টি। বর্তমান সময়ে ইউরোপের অন্য যে কোনো ফুটবলারের চেয়ে বেশি। কাছাকাছি আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, গোল ৭টি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এ মৌসুমে তার মোট গোল ৭২। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল কেইনের প্রশংসা করে বলেন, ‘বড় স্ট্রাইকাররা সব সময় পুরো ম্যাচে সঠিক মুহূর্তে আঘাত করতে জানে।








