দেশজুড়ে আজ রোববার (২৮ জুন) অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশের নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, শিশুদের জন্য এই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেন এত জরুরি এবং এটি কীভাবে শিশুর সুরক্ষায় কাজ করে?
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ‘এ’ একটি অপরিহার্য উপাদান।
কেন প্রয়োজন?
১। অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ: ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত কারণে শিশুদের অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই ক্যাপসুল শিশুদের রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত ও সুস্থ রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
২। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এটি শিশুর শরীরে প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে শিশুরা সহজে সাধারণ রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয় না।
৩। হাম ও ডায়রিয়ার জটিলতা হ্রাস: হাম, ডায়রিয়া এবং নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক সব সংক্রামক রোগের তীব্রতা ও জটিলতা কমাতে ভিটামিন ‘এ’ দারুণ কার্যকর। এটি আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করে।
আরও পড়ুন
২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে আজ
৪। স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ: শিশুর হাড়ের গঠন, কোষের বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের জন্য এই পুষ্টি উপাদানটি অত্যন্ত জরুরি। এর ঘাটতি হলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
বয়স অনুযায়ী ক্যাপসুলের ধরন
ক্যাম্পেইনে শিশুদের বয়সভেদে দুই রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে
৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু: ১টি নীল রঙের ক্যাপসুল (১,০০,০০০ IU ভিটামিন-এ)
১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু: ১টি লাল রঙের ক্যাপসুল (২,০০,০০০ IU ভিটামিন-এ)
বাবা-মায়ের জন্য জরুরি সতর্কতা ও পরামর্শ
খালি পেটে খাওয়ানো নিষেধ: কোনো শিশুকে খালি পেটে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আগে শিশুকে অবশ্যই কিছু খাবার খাইয়ে নিতে হবে।
অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে: শিশু যদি গুরুতর অসুস্থ থাকে বা জটিল কোনো চিকিৎসাধীন থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরে ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
টিকা বা খাবারের বিকল্প নয়: মনে রাখতে হবে, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কোনো টিকার বিকল্প নয়, আবার সুষম খাবারেরও বিকল্প নয়। এটি একটি সম্পূরক (Supplement) মাত্র। তাই ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি শিশুকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ও মায়ের দুধ দেওয়া অব্যাহত রাখতে হবে।
আজকের মূল ক্যাম্পেইনে কোনো শিশু বাদ পড়লে, পরদিন (২৯ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। এছাড়া দুর্গম এলাকায় অতিরিক্ত আরও চারদিন এই কার্যক্রম চলবে। আপনার শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে হলে আজই নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে তাকে সুরক্ষিত করুন।
এসইউজে/এসএনআর








