সুস্থ জাতি গঠনে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার কোনো বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং জীবনধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) অনুষ্ঠিত ‘সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা: রোগমুক্ত সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা বলেন তারা। আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের আয়োজনে এ সেমিনারে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বপর্ণ আলোচনা করা হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব মো. মাহবুবুল হক। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসা গবেষক, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ( ডব্লিউইউএসটি) ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের প্রফেসর এবং প্রখ্যাত ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসক ড. মজিবুল হক।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মজিবুল হক বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগে বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রতি বছর লাখো মানুষ এসব রোগে প্রাণ হারাচ্ছেন।

তিনি বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এ ধরনের রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের মূল কারণ, কেন এসব রোগ বাড়ছে এবং কীভাবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণের মাধ্যমে এসব রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তার বক্তব্যে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক সুস্থতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারার গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে। তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি পুষ্টিবিজ্ঞান, জীবনধারা পরিবর্তন এবং সমন্বিত (ইন্টিগ্রেটিভ) চিকিৎসা পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে অনেক দীর্ঘমেয়াদি রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা এবং রোগীর জীবনমান উন্নত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আরমান বিন কাশেম, আইসিটি বিভাগের সাবেক সচিব ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারপারসন শিশ হায়দার চৌধুরী, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এইউবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান এবং রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম।

অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান বলেন, একটি সুস্থ্য, সচেতন ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং জীবনধারাভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

দেশে অল্টারনেটিভ চিকিৎসা ও গবেষণায় সরকারি বাজেট বাড়ানোর আহ্বান জানান ব্যারিস্টার মীর আরমান বিন কাশেম।

এদিকে, মানুষের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য এ ধরনের সেমিনার আরও বেশি প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সাবেক সচিব এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারপারসন শিশ হায়দার চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির হেলথ সায়েন্স বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক ড. মজিবুল হককে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এছাড়া, আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার থেকে চিকিৎসা নিয়ে যারা সুস্থ হয়েছেন, তারা অনুষ্ঠানে তাদের সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

এসইউজে/এমএএইচ/