টানা ২৬ দিন আমরণ অনশন করার পর অবশেষে অনশন ভেঙেছেন ভারতের খ্যাতনামা পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার (২৪ জুলাই) কেন্দ্রীয় সরকারের দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিনি এই অনশন ভঙ্গ করেন। লেহ অ্যাপেক্স বডির সহ-আহ্বায়ক চেরিং দর্জি লাকরুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দিষ্ট কিছু লিখিত শর্ত ও আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি অনশন ভাঙতে রাজি হন। সরকার লিখিতভাবে জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী সহিংসতায় জড়িত ছিল না, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এ ছাড়া পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে আত্মহননকারীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।গত ২০ জুন থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) নেতৃত্বে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। সোনম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনশন শুরু করেন। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অনশন ভাঙার আগে ওয়াংচুক তার সমর্থকদের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বজায় রাখার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘শান্তিই আমার একমাত্র পথ। আমার প্রতিবাদ কর্মসূচি যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু অসাধু চক্র একে সহিংস করার উসকানি দিচ্ছে। প্রতিপক্ষ যা-ই করুক, আমাদের জবাব হতে হবে কেবল ফুল দিয়ে।’এর আগে ২০ জুলাই দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রায় পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আঙমো তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) আন্দোলনকারীদের শৃঙ্খলার প্রশংসা করে বলেন, ‘আন্দোলনকারী তরুণদের ধৈর্য ও সেবামূলক মানসিকতা আমাকে আশাবাদী করেছে। ভারতের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হাতেই আছে।’কেন্দ্রীয় সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে এই সমঝোতার ফলে গত এক মাস ধরে চলা অস্থিরতা কিছুটা প্রশমিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দাবি আদায় পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী নেতারা।/