টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে। দলটি ২০২৬ সালের শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষে ড্র করেছে এবং এখন আরও বড় কিছু অর্জনের স্বপ্ন দেখছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সুযোগ নিয়ে এই আফ্রিকান দলটি উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে।

দ্বিতীয় রাউন্ডে ডিআর কঙ্গো কলম্বিয়ার কাছে হেরেছিল। বর্তমানে ১ পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচের মাধ্যমে সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর তালিকায় নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। তবে ‘গ্রুপ কে’-তে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনাও তারা উড়িয়ে দিচ্ছে না।

এই শেষের লক্ষ্যটি বেশ জটিল। উজবেকিস্তানকে হারানোর পাশাপাশি কঙ্গোকে এটাও নিশ্চিত করতে হবে, যেন পর্তুগাল কলম্বিয়ার কাছে হেরে যায়; কিন্তু কেবল এই ফলগুলোই যথেষ্ট হবে না। গোল পার্থক্যের ক্ষেত্রে পর্তুগালের যে ছয় গোলের বাড়তি সুবিধা রয়েছে, আফ্রিকান দলটিকে তা’ও টপকাতে হবে।

অন্যদিকে, সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর একটি হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করাটা খুব একটা কঠিন লক্ষ্য নয়। জয় পেলে ডিআর কঙ্গোর পয়েন্ট দাঁড়াবে ৪-এ এবং তারা পরের রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে ভালোভাবেই টিকে থাকবে।

কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রি বলেছেন, ‘আমাদের জিততেই হবে। আসলে ব্যাপারটা এমন যে, আমরা যে ম্যাচই খেলি না কেন, আমাদের জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে হয়। আমরা চার বছর ধরে কাজ করছি। আমরা প্রস্তুত এবং বিভিন্ন কৌশলে খেলার জন্য নিজেদের তৈরি করেছি। একটি ম্যাচ জেতার জন্য অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। তবে সবচেয়ে জরুরি হলো গোল করার ব্যাপারে অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকা। ফুটবল মাঠে এটা কখনোই সহজ কাজ নয়। বিশেষ করে উজবেকিস্তানের মতো সুসংগঠিত দলের বিপক্ষে। জয়ের জন্য আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করব। আমরা জানি যে, গত ৪ বছরে গোল করার ক্ষেত্রে আমাদের গড় পারফরম্যান্স চমৎকার ছিল। আশা করি আমরা সেই সামর্থ্য আবারও প্রমাণ করতে পারব।’

পরবর্তী ধাপে বা দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হওয়াটা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হবে। কারণ ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো তারা বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। এর আগে ১৯৭৪ সালে তারা প্রথমবার অংশ নিয়েছিল। তখন দেশটির নাম ছিল জায়ারে এবং সেবার ৩টি ম্যাচেই হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা।

আরআর/আইএইচএস/